এই বিশেষ উদ্যোগটি পূর্ব রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অধীনে নন-সাবার্বান গ্রুপ (NSG) ১-৫ ক্যাটাগরির স্টেশনগুলির সার্বিক উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করে। যাত্রী আয় এবং যাত্রী সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এই উচ্চ-অগ্রাধিকার সম্পন্ন স্টেশনগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবগুলি আধুনিক স্যানিটেশন এবং পানীয় জলের পরিকাঠামো পায়। রেল মন্ত্রক এবং ভারত সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে স্টেশনগুলিকে যাত্রী-বান্ধব কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে পূর্ব রেল দিনরাত কাজ করে চলেছে। এই উদ্যোগ প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের অবিচল সদিচ্ছাকেই তুলে ধরে। এই সম্প্রসারণ প্রকল্প কেবল একটি প্রশাসনিক মাইলফলক নয়, বরং লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর জন্য ‘ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য’ (Ease of Travel) নিশ্চিত করার একটি নিদর্শন ।
advertisement
যাত্রী কল্যাণের ব্লু প্রিন্ট
পরিকাঠামোর এই জোয়ারের পিছনের দর্শনটি অত্যন্ত সহজ, একজন যাত্রীর যাত্রা কেবল ট্রেনে শুরু বা শেষ হয় না; স্টেশনে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই তার ভ্রমণের অংশ। দিন মজুর এবং অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক এবং পরিবার—সকলের নানাবিধ প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দিয়ে পূর্ব রেল স্যানিটেশন (স্বচ্ছতা) এবং হাইড্রেশনকে (পানীয় জল) স্টেশন ব্যবস্থাপনার দুটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
যাত্রীদের যাতায়াতের ধরণ এবং ব্যস্ত সময়ের ভিড় পর্যালোচনা করে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এই সুযোগ-সুবিধাগুলি স্থাপন করা হয়েছে। এই সুবিধাগুলি কেবল উপলব্ধ করাই নয়, বরং সেগুলি যাতে সহজলভ্য এবং সুপরিচালিত থাকে তা নিশ্চিত করে জনসেবায় এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে রেল।
ডিভিশন ভিত্তিক সুযোগ-সুবিধার বিন্যাস, যাত্রীদের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন স্টেশনে নিম্নলিখিত হারে পরিকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে :
১. শিয়ালদহ ডিভিশন: শহুরের হৃদস্পন্দন
(স্টেশন: শিয়ালদহ, কলকাতা, নৈহাটি, বহরমপুর কোর্ট, বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ)
শিয়ালদহ, যা পশ্চিমবঙ্গের শহরতলির প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ যাত্রী ঘনত্ব সামলায়। এই বিপুল চাপ মোকাবিলায় প্রধান স্টেশনগুলিতে ১৩৫টি প্রস্রাবাগার এবং ১০৩টি শৌচালয় রয়েছে । শহরতলির যাত্রীদের জন্য পানীয় জল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সমাধানে ৫৬০টিরও বেশি জলের কল এবং ২৪টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার কুলার বসানো হয়েছে। এই অঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আধুনিক ফিল্টারযুক্ত এই কুলারগুলি নিরবচ্ছিন্ন শীতল পানীয় জল সরবরাহ করবে।
২. হাওড়া ডিভিশন: ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বার
(স্টেশন: হাওড়া, বর্ধমান, ব্যান্ডেল, বোলপুর, রামপুরহাট, খাগড়াঘাট রোড, পাকুড়)
দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ব্যস্ততম রেল জোন হিসেবে হাওড়া ডিভিশন দূরপাল্লা ও লোকাল ট্রেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। দৈনিক বিপুল যাত্রী সমাগম সামলাতে এই ডিভিশনে এখন ২৩৬টি প্রস্রাবাগার এবং ১১৫টি শৌচালয় রয়েছে। এখানে জল সরবরাহের পরিমাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ৯৬৭টি জলের কল এবং ৬১টি ওয়াটার কুলার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ বা উৎসবের ভিড়েও কোনও যাত্রীকে পানীয় জলের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না।
৩. আসানসোল ডিভিশন: শক্তিশালী শিল্পাঞ্চল
(স্টেশন: আসানসোল, জসিডি, দুর্গাপুর, মধুপুর, রানিগঞ্জ)
এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শ্রমিক এবং পর্যটকদের সহায়তার জন্য শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করা হয়েছে। আসানসোল ডিভিশনে ১০৫টি প্রস্রাবাগার এবং ১০৬টি শৌচালয় স্থাপন করা হয়েছে। উত্তর ও মধ্য ভারতের সংযোগকারী জংশন হিসেবে আসানসোলের গুরুত্ব বুঝে এখানে ১২৯টি জলের কল এবং ৩০টি ওয়াটার কুলার বসানো হয়েছে।
৪. মালদহ ডিভিশন: সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতি
(স্টেশন: ভাগলপুর, মালদহ টাউন, নিউ ফারাক্কা জংশন, বারহারওয়া জংশন)
দক্ষিণবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী মালদহ ডিভিশনে ৫২টি প্রস্রাবাগার এবং ৪৭টি শৌচালয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে যাত্রী সংখ্যা মেট্রোপলিটন হাবের তুলনায় আলাদা হলেও পরিষেবার গুণগত মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের স্বস্তির জন্য ৫০৫টি জলের কল এবং ২৭টি ওয়াটার কুলার মোতায়েন করা হয়েছে, যা বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতগামী যাত্রীদের যাত্রাপথকে আরামদায়ক করবে।
পূর্ব রেলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘ভারতীয় রেল সর্বদা তার যাত্রীদের পাশে আছে। রেল মন্ত্রকের নির্দেশনায় আমাদের লক্ষ্য হল কোনও যাত্রী যেন অসুবিধার সম্মুখীন না হন। ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে এই ওয়াটার কুলার, কল এবং স্যানিটেশন ইউনিটগুলি স্থাপনের মাধ্যমে আমরা ভ্রমণকে আগের চেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করে তুলছি।’’
