পূর্ব রেল ক্রমাগত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৬০০.১১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ বিক্রির এই সাফল্য পূর্ববর্তী বছরগুলির তুলনায় অনেক বেশি: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের (৫৩৭.৬৫ কোটি টাকা) তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১.৬২% বৃদ্ধি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের (৪৮৯.৯৩ কোটি টাকা) তুলনায় ২২.৪৯% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, পূর্ব রেল সম্পদ সচল করতে এবং রেল চত্বরকে জঞ্জালমুক্ত ও পরিষ্কার রাখতে কৌশলগতভাবে কাজ করে চলেছে।
advertisement
বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরি–এই ব্যাপক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ এবং শত শত বাতিল ইউনিট ফের অর্থনীতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পূর্ব রেল সাফল্যের সঙ্গে ৪০,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি রেল এবং পি-ওয়ে ফিটিংস নিষ্পত্তি করেছে। এছাড়া, ৪,০০,০০০টি পিএসসি (PSC) স্লিপার সিস্টেম থেকে সরানো হয়েছে।
ফেরাস স্ক্র্যাপ (লৌহজাত বর্জ্য): রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতির (MRO) সময় জমা হওয়া প্রায় ৬৫,০০০ মেট্রিক টন ফেরাস স্ক্র্যাপ এবং ৪,২০০ মেট্রিক টন নন-ফেরাস স্ক্র্যাপ বিক্রি করা হয়েছে।
রোলিং স্টক লিকুইডেশন: পূর্ব রেল ৪১০টি পুরনো কোচ (EMU, ICF এবং DEMU) এবং ৯১০টি ওয়াগন সরিয়ে সেগুলির জায়গায় আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির কোচ ও ওয়াগন যুক্ত করেছে। পাশাপাশি ১৮টি ডিজেল লোকোমোটিভ এবং ১৯টি ইলেকট্রিক লোকোমোটিভও নিলাম করা হয়েছে।
পূর্ব রেল দশকের পুরনো পরিত্যক্ত কাঠামোগুলি পরিষ্কার করার জন্য একটি বিশেষ প্রচার অভিযান চালিয়েছে। এই কাঠামোগুলি কেবল ব্যবহারযোগ্য জায়গা আটকে রেখেছিল তাই নয়, বরং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করছিল। মোট ২,০০০-এর বেশি পরিত্যক্ত সিভিল স্ট্রাকচার সরিয়ে রেলের মূল্যবান জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যা এখন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে।
পূর্ব রেলের এই সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, সংগৃহীত স্ক্র্যাপের ২৭.৪% বৃদ্ধি যা রেলের নিজস্ব হুইল প্ল্যান্টে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে। (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যা ছিল ৮৪ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি টাকায়)। পূর্ব রেলের প্রধান মুখ্য মেটেরিয়াল ম্যানেজার শ্রী সন্দীপ শুক্লা জানিয়েছেন, “স্ক্র্যাপ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আমরা কেবল গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বই উৎপাদন করছি না, বরং রেলের মূল্যবান জায়গাও উদ্ধার করছি।”
