সমাজের জন্য বার বার জীবন বাজি রেখেছেন। পরোয়া করেননি মৃত্যুকে । তবু বিপিন গনোত্রা, করিমুল হকদের রেয়াত করেনি সমাজ। করিমূলের পর এবার পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বিপিন গনোত্রাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। বুধবার বাড়িতে অসুস্থবোধ করলে এক বন্ধুর সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বিপিন। প্রথমেই গাড়ি পার্কিং নিয়ে একপ্রস্থ বচসা হয় নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে । পরে ইসিজি রুমে ঢুকে তাঁকে মারতে আসে সেই রক্ষী।
advertisement
চল্লিশ বছর ধরে আগুন লাগার খবর পেলেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিপিন। আগুনে পুড়ে এক নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর পর থেকেই স্বেচ্ছায় এই জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি। স্টিফেন কোর্ট, আমরি , নন্দরাম মার্কেট-সহ শহরের যে কোনও বড় অগ্নিকাণ্ডে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য দমকল বাহিনী। পেয়েছেন পদ্মশ্রীও। অথচ সমাজ তাঁর প্রাপ্য এভাবে দিল? হতভম্ভ বিপিন লিখিত অভিযোগ করেছেন বউবাজার থানায়।
মাত্র দু মাস আগেই জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত মেয়ের জন্য রক্ত আনতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন করিমুল হক। চা বাগানে কেউ অসুস্থ হলেই যিনি বিনামূল্যে বাইক অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীদের পৌঁছে দেন হাসপাতালে। এভাবে প্রায় তিন হাজার মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন পদ্মশ্রীপ্রাপক করিমুল। অথচ সেই হাসপাতালেই চরম অপমানের শিকার হতে হয় এই সমাজকর্মীকে। এভাবেই কী ঋণ শোধ করে সমাজ? ফায়ারম্যানের হেনস্থা ফের এই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল আমাদের।
