TRENDING:

এলিট রয়ে যাবে, যেভাবে রয়ে গিয়েছে ‘উজ্জ্বলা’ চানাচুর !

Last Updated:

৭৮ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ৷ বন্ধ ধর্মতলা চত্বরের জনপ্রিয় সিনেমা হল এলিট ৷ কিন্তু এই ঘটনা কি কলকাতার কাছে নতুন ? আগে কি এরকম ঘটনার সাক্ষী করেনি এ শহর !

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
#কলকাতা: ৭৮ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ৷ বন্ধ ধর্মতলা চত্বরের জনপ্রিয় সিনেমা হল এলিট ৷ কিন্তু এই ঘটনা কি কলকাতার কাছে নতুন ? আগে কি এরকম ঘটনার সাক্ষী করেনি এ শহর !
advertisement

১৯০৭ সালে জামশেদজি ফ্রামজি মাদান তৈরি করেছিলেন চ্যাপলিন সিনেমা হল ৷ সিনেমার ইতিহাস বলছে, এই চ্যাপলিনেই এক সময় প্রোজেক্টারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মহানায়ক উত্তর কুমারের বাবা ৷ চ্যাপলিন সিনেমার হাত ধরে বহু বিদেশি ছবির সাক্ষী হয়েছিল কলকাতার সিনেমাপ্রেমী ৷ এই চ্যাপলিনে মুক্তি পেয়েছে বহু জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা ছবিও ৷ তবে বেশিদিন আর সুখের দিন দেখেনি এই সিনেমা হল ৷ ১৯৮০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের দায়িত্বে আসে চ্যাপলিন ৷ নতুন করে সংস্কারও করা হয় এই সিনেমা হলের ৷ তবুও মাল্টিপ্লেক্সের সামনে মাথা তুলতে পারেনি চ্যাপলিন ৷ ২০১৩ সালে বন্ধ হয় চ্যাপলিন ৷ ভেঙে ফেলা হয় পুরনো ঐতিহ্যকে ৷ ইঁট-পাথরের টুকরো ধুলোয় মিশে গেলেও, নস্ট্যালজিয়ায় আটকে চ্যাপলিন ৷

advertisement

আমরা বাঙালিরা কী নস্ট্যালজিয়া আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসি ? নাকি এই শহরের ঐতিহ্য, এই শহরের ইতিহাস, এই শহরের আভিজাত্য আমাদের অভ্যাসে ? উত্তরটা হয়তো দিতে পারে রাজপথের বাসস্টপ ! উত্তরটা দিতে পারে হয়তো রাস্তার মোড় কিংবা ঠিকানা!

আরও 

বন্ধ হল এলিট সিনেমা, ৭৮ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি

মে মাসের শেষে বন্ধ হল ৭৮ বছরের পুরনো এলিট সিনেমা হল ৷ এর আগে এই চত্বরেই বন্ধ হয়েছে আরও কিছু সিঙ্গল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহ! টাইগার, গ্লোব, জ্যোতি, মেট্রো, লাইট হাউজ, নিউ এম্পেয়ার ৷ বন্ধ হওয়া সিনেমাহলে কোথাও হয়েছে শপিং মল, তো কোথাও হয়েছে রেস্তোরাঁ ৷ তবে ঝাঁ চকচকে আলো দূর করতে পারেনি মস্তিষ্কে ভিড় করা নস্ট্যালজিয়াকে ৷ ঠিক যেমন ‘মেট্রো’ গলি ৷ ঠিক যেমন গ্লোবের চাট ! গুগল ম্যাপ যাই দেখাক না কেন, আমাদের কাছে ল্যান্ডমার্ক সেই পুরনো নামগুলোই ৷ ঠিক যেমন বাস কন্ডাকটরের হাঁক ‘এলিট সিনেমা !

advertisement

গোটা কলকাতা জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে এরকম অনেক কিছু ৷ যা কিনা না থেকেও, রয়েছে আমাদের অভ্যাসে ৷ রয়েছে রোজকার কথামালায় ৷ আজও বিকেল বেলা লম্বা লাইন পড়ে দক্ষিণ কলকাতার ‘উজ্জ্বলা’ চানাচুরের দোকানে ৷ উজ্জ্বলা বন্ধ হয়েছে অনেক বছর৷ এই উজ্জ্বলাও বাংলা সিনেমার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাহক ৷ বহু হাইজফুল ছবির সাক্ষী এই উজ্জ্বলা ৷ বন্ধ হয়েছে এই পাড়ার বসুশ্রী৷ বন্ধ হয়েছে বিজলিও ৷ তবুও অভ্যাসে আটকে আমরা ৷ একের পর নাম মগজে ঘুরপাক !

advertisement

তবে শুধু সিনেমা হলই নয়, অভ্যাসে রয়েছে বন্ধ হওয়া ডানলপ কারখানা, তাই হয়তো অভ্যাসের জন্যই এখনও ডানলপ ব্রিজ ! তাই তো অভ্যাসের জন্যই এখনও পার্কস্ট্রিটের মিউজিক ওয়ার্ল্ড মোড় ! কিংবা টাউন হল, মিনার্ভা, খান্না সিনেমা ৷

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
ভোটের ট্রেনিং সেন্টারে পচা খাবার দেওয়ার অভিযোগ! কর্মীরা খাবার ফেলে দিলেন সব
আরও দেখুন

প্রশ্ন উঠছে এই অভ্যাস কী শুধুই প্র্যাকটিস? আমাদের কী ভাবা বারণ? কেনই বা দিন দিন বাঙালির নস্ট্যালজিয়াতেই রয়ে যাচ্ছে কলকাতার সব ঐতিহ্য ? মোবাইল ফোনে মুখ গুজে, শুধু ‘আবেগের সেলিব্রেশন’, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতি মন্থন ! উত্তরটা অজানা, ভাবনায় হারিয়ে যাওয়া ৷ ঠিক যেমন বাসস্টপের নাম এলিট, খান্না, মেট্রো আর চানাচুরে উজ্জ্বলা !

advertisement

বাংলা খবর/ খবর/কলকাতা/
এলিট রয়ে যাবে, যেভাবে রয়ে গিয়েছে ‘উজ্জ্বলা’ চানাচুর !