পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের কড়া মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। SIR প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া সারা দেশেই চলছে এবং উত্তরপ্রদেশেও তা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের ‘গুণ্ডা’ এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল বিচলিত হয়ে পড়েছে। তবে বিজেপি এতে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে না বলেও দাবি করেন তিনি। মৌর্য বলেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই—দেশের প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন ভোটার তালিকায় থাকে।
advertisement
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনও নির্দিষ্ট দলের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করে না। বিজেপি যদি ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে, তবে তৃণমূল, কংগ্রেস বা কমিউনিস্টরাও একইভাবে তা করতে পারে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি অভিযোগ করেন, “অভিযোগ করা, বিচারকদের বন্দি করে রাখা, অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করা—এই সব দিনের শেষ হতে চলেছে।”
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আগামী নির্বাচনে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পাবে এবং সরকার গড়বে।
দিঘায় বেড়াতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি! হোটেলের সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু কলকাতার যুবকের
‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটছি বলে পেটে ব্যথা হচ্ছে!’ অসমে একযোগে মমতা-রাহুলকে আক্রমণ অমিত শাহের
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মৌর্য। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে। বিহারে আরজেডি এবং উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আমলে যেমন পরিস্থিতি ছিল, এখন পশ্চিমবঙ্গেও তেমনই অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও শীঘ্রই সেই পরিবর্তন আসবে।
বুলডোজার নীতি প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মৌর্য। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারী, গুণ্ডা ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই বুলডোজার চালানোর প্রয়োজন হয়। বিজেপি তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে না, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “ওঁরা কিছু মানুষের সঙ্গেই উন্নয়ন করেন, তুষ্টিকরণ আর অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করেন।” গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করেন মৌর্য। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি যেমন উত্তরপ্রদেশে পরিবর্তন এনেছে এবং নীতীশ কুমার বিহারে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, তেমনই পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গেও সম্ভব।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে।
