যত সময় এগোচ্ছে, তত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১১, নিখোঁজ একাধিক। ১৭ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হয়েছে থানায়। দু’টি গোডাউনে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।
কিন্তু এরকম হল কেন? কারণ, নিয়ম মেনে যা যা করার কথা, তার কোনওটাই করা হয়নি। আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থাই ছিল না দুটি গোডাউনে। ফলে যত সময় গিয়েছে আগুন ছড়িয়েছে। আরও বিধ্বংসী চেহারা নিয়েছে। অথচ দুই কারখানাতেই ছিল দাহ্য বস্তু। তা সত্ত্বেও বিন্দুমাত্র সতর্কতা ছিল না। দমকলের ডিজি রণবীর কুমার জানিয়েছেন, দুই গোডাউনের একটিতেও ফায়ার অডিটি হয়নি। তাঁর কথায়, ”ফায়ারের ক্লিয়ারেন্স নেই এটা বলতে পারি। অডিট হয় না। নিশ্চিতভাবে এফআইআর করা হবে। ভায়োলেশন হয়েছে তো। আইনমাফিক যা কিছু প্রসিডিওর সবকিছুই হবে।” এদিকে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টায় ডেকরেটর্স মালিক! যেখানে দমকলের ডিজি বলছেন, আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে ডেকরেটর্সের মালিক দাবি করে যাচ্ছেন, সব কিছুই নাকি ঠিকঠাক ছিল। ব্যবহার করে উঠতে পারেননি। ঘটনায় ডেকরেটর্স সংস্থার বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় এফআইআর হয়েছে।
advertisement
ইএম বাইপাসের ধারে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের অফিস-গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু! গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেই অফিসেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না! কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি মাত্র দরজা! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহাংশ।
পাশাপাশি দুটো গোডাউন। একটি মোমো তৈরির কাঁচামাল রাখার গোডাউন। আরেকটি ডেকরেটর্সের গোডাউন। দু’টি গোডাউনেরই ঢোকা-বেরনোর একটাই রাস্তা। আগুন লাগলে অন্য কোনও রাস্তা দিয়ে বেরোনর উপায়ই নেই। অনেকের অভিযোগ, এই গোডাউন দুটি তৈরিই হয়েছে বেআইনি ভাবে। জলাজমি বুজিয়ে। পুলিশের সন্দেহ, ডেকরেটর্স গোডাউনের কর্মীরা রান্না করছিলেন। সেখান থেকে আগুন লাগে। তা ছড়ায় পাশের মোমোর কাঁচামাল রাখার গোডাউনে। দুটি গোডাউনই পুড়ে ছাই। ডেকরেটর্সের গোডাউনে ছিল প্রচুর দাহ্যবস্তু। মোমোর কাঁচামালের গোডাউনেও ছিল দাহ্যবস্তু। এত দাহ্য বস্তু। কিন্তু, আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা দুটি গোডাউনের একটিতেও ছিল না। ফলে আগুন বিধ্বংসী চেহারা নেয়।
