ভস্মীভূত নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার আনন্দপুরের ডেকরেটর্সের অফিস-গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু!গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেই অফিসেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না! কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি মাত্র দরজা! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? চলছে উদ্ধারকাজ।
advertisement
প্রায় ১৯ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদের বিশাল দু’টি গুদামের ইতিউতি এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে আগুন । গোডাউনে বেশ কিছু জায়গায় এখনও পকেট ফায়ার রয়েছে। চলছে কুলিং প্রসেস। কুলিং প্রসেস শেষ হলে ফরেনসিক পরীক্ষা হবে। ফরেনসিকের তরফে নমুনা সংগ্রহের পরই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। অগ্নিদগ্ধ দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছে বলে শনাক্ত করার পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যে ১৭ জন কর্মী ডেকরেটার্স সংস্থার এবং বাকি ৩ জন মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার৷ যে সব পরিবার এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের তথ্য লিখিয়েছেন, তাঁদের সকলকে মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে DNA দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। DNA পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ ইএম বাইপাসের কাছে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে শুকনো খাবারের গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। মজুত রাখা হত ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। কী ভাবে সেখানে আগুন লাগল, এখনও স্পষ্ট নয়।
মনে করা হচ্ছে, গুদামের ভিতরে থাকা কর্মীদের গ্যাসের সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে এই ঘটনা ঘটে৷ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন৷ পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। মধ্যরাতে গুদামে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে কয়েক জন দমকলকে খবর দেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে আগুন লাগে একটি অনলাইন খাবার সরবরাহ করা সংস্থার গোডাউনে। সেখান থেকে পাশের ডেকরেটার্সের গোডাউনে। নরেন্দ্রপুরে পৌঁছয় দমকলের গাড়ি। একে একে চোদ্দটা। অভিযোগ, সরু রাস্তার কারণে ভেতরে ঢুকতে বেগ পেতে হয়।
বিধ্বংসী আগুনে গোডাউনের দেওয়ালে ফাটল ধরে। গোডাউনের টিনের ছাউনির একাংশ ভেঙে পড়ে পড়ে। পুড়ে খাক হয়ে যায় গোডাউনের ভিতরে থাকা বাইক। পাশাপাশি দু’টো গোডাউনে আগুন লাগে। আটকে পড়েন দুই গোডাউনেরই বেশকয়েকজন কর্মী। আগুনে ঝলসে মারা যান বেশ কয়েকজন গোডাউনের কর্মী। সোমবার দুপুরে নরেন্দ্রপুরে যান রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রায় ১১ ঘণ্টা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তারও বেশকিছুক্ষণ পর ভেতরে ঢোকে দমকল। ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই।
