রবিবারের অভিশপ্ত ভোররাত! ইএম বাইপাসের ধারে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদ। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার আনন্দপুরের ডেকরেটর্সের অফিস-গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু!গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেই অফিসেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না! কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি মাত্র দরজা! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহাংশ।
advertisement
এই আগুন লাগলো কীভাবে? পুলিশের সন্দেহ, ডেকরেটর্স গোডাউনের কর্মীরা রান্না করছিলেন। সেখান থেকে আগুন লাগে। তা ছড়ায় পাশের মোমোর কাঁচামাল রাখার গোডাউনে। দুটি গোডাউনই পুড়ে ছাই। ডেকরেটর্সের গোডাউনে ছিল প্রচুর দাহ্যবস্তু। মোমোর কাঁচামালের গোডাউনেও ছিল দাহ্যবস্তু। এত দাহ্য বস্তু। কিন্তু, আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা দুটি গোডাউনের একটিতেও ছিল না। ফলে আগুন বিধ্বংসী চেহারা নেয়।
নাজিরাবাদে পাশাপাশি দুটি গোডাউন। একদিকে ডেকরেটর্সের গোডাউন। সেখান থেকে বেরিয়ে সরু রাস্তা। রাস্তার শেষে অফিস। পাশের ফাঁকা জায়গায় ডেকরেটার্সের কাঁচামাল রাখা হয়। মোমো তৈরির কাঁচামাল রাখার গোডাউনে ঢোকারও একটাই রাস্তা। রবিবার গভীর রাতে এই রাস্তাতেও দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। গোডাউন থেকে বেরনোর অন্য কোনও রাস্তা নেই। তাই অনেকেই আর বেরোতে পারেননি। ঝলসে মারা গিয়েছেন।
