জঙ্গলমহলের বিস্তৃতি রয়েছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে৷ পূর্বতন লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখলে বোঝা যাবে, লোকসভা ভোটে সেখানে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত ছিল নজরে পড়ার মতো৷ ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই অঞ্চলে আবার ভাল ফল করে তৃণমূল৷ ঠিক তার দু’বছরের মাথায় পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সেই ধারাই আরও একটু এগিয়ে গেল৷ ২০১৮ সালের তুলনায় ভাল ফল করল তৃণমূল, কিছুটা ভোট কমল বিজেপির৷ বাকি দুই বিরোধী দল তেমন কোনও দাঁত বসাতেই পারল না৷
advertisement
আরও পড়ুন: তিহাড়ে থাকা অনুব্রত-ম্যাজিক নাকি কাজলের কেরামতি? বীরভূম একমাত্র তৃণমূলেরই
আরও পড়ুন: মেয়ের জন্য গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে গেলেন TMC বিধায়ক, তখনই যা ঘটল, আশ্চর্য না হয়ে পারবেন না
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ২০১৮ সালে জেলা পরিষদের মোত আসন ছিল ৫১টি, সেটি এ বারে বেড়ে হয়েছে ৬০৷ এ বারের নির্বাচনে সেই ৬০টির মধ্যে ৬০টি আসনেই জয় পেয়েছে তৃণমূল৷ অর্থাৎ জেলা পরিষদ একক ভাবে দখল করেছে শাসক দল তৃণমূল৷ জেলার ২১টি পঞ্চায়েত সমিতির সবকটিতে তৃণমূল জয় পেয়েছিল ২০১৮ সালে, এ বারে ২০২৩ সালেও ফল একই থেকেছে৷ ২০১৮ সালের ২১১টি আসনের মধ্যে ১৭৯টি পেয়েছিল তৃণমূল, ২১টি পেয়েছিল বিজেপি ও ১১টি ত্রিশঙ্কু হয়েছিল৷ এ বারে সেই ফলে পরিবর্তন এসেছে, ১৯৬টি আসন পেয়েছে তৃণমূল, বিজেপি পেয়েছে ৭টি আসন, ত্রিশঙ্কু হয়েছে ৮টি আসন৷
এ বার দেখা যাক ঝাড়গ্রাম জেলার ক্ষেত্রে৷ সেখানে আবার বিজেপির ফল কিছুটা ভাল হয়েছিল গতবার৷ ২০১৮ সালের ফলে দেখা গিয়েছে, জেলা পরিষদের মোট আসনের মধ্যে ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল, ৩টি আসনে বিজেপি৷ এ বারেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত ফলে দেখা গিয়েছে তৃণমূল ইতিমধ্যে ১৩টি আসনে পৌঁছে গিয়েছে, বিজেপি জিতেছে ১টি আসনে, দু’টি আসনের ফল এখনও আসেনি৷ পঞ্চায়েত সমিতিতে দু’বারই সব আসন পেয়েছে তৃণমূল৷ গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে গতবারের ১৭৩টি আসনের থেকে এ বারের আসন কমে হয়েছে ১৬২৷ ত্রিশঙ্কু সমিতির সংখ্যা বেড়েছে ১৮টি৷
জঙ্গলমহলের অন্যতম প্রধান জেলা পুরুলিয়া৷ সেখানে বিপুল আসন বেড়েছে তৃণমূলের৷ পুরুলিয়ায় জেলা পরিষদের ৪২টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল৷ বিজেপি জিতেছে ২টি আসনে৷ অন্যরা জিতেছে ১টি আসনে৷ ২০১৮ সালে তৃণমূলের কাছে ছিল ২৬টি আসন৷ বিজেপির অনেকগুলি আসন কমে এবার দাঁড়িয়েছে ২-এ৷ পঞ্চায়েত সমিতির হিসাবে আগেরবারেও ১৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল, এ বারেও সেই আসনই পেয়েছে৷ অর্থাৎ পুরুলিয়া জেলায় এক নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ঘাসফুল শিবির৷
