অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির নোংরা খেলায় বিজেপি এখন সিদ্ধহস্ত। দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রে তারা এর মহড়া সেরে নিয়েছে। আর এখন বাংলায় তারা খেলছে আসল ম্যাচ।” তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে যেখানে প্রায় ৪৩ লক্ষের কিছু বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন, সেখানে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে আরও ৪০ লক্ষের বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন। একইভাবে দিল্লিতেও চার বছরে যুক্ত হওয়া ভোটারের সংখ্যার প্রায় সমান ভোটার মাত্র সাত মাসেই তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
advertisement
তাঁর কথায়, “আমি তখনই সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, আসল কারচুপিটা ইভিএম-এ হয় না, বরং তা হয় ভোটার তালিকাতেই। আর এখন বাংলা ঠিক সেই দৃশ্যটিরই সাক্ষী হচ্ছে।”
একটি ভিডিওর উল্লেখ করে তৃণমূল নেতা দাবি করেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক ‘ফর্ম ৬’ আবেদনপত্র মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বেআইনিভাবে ভোটার এনে বাংলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “জালিয়াতিপূর্ণ ‘ফর্ম ৬’-এর আবেদনপত্রে ঠাসা অসংখ্য বাক্স প্রকাশ্যে জমা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় কোথাওই ‘ফর্ম ৬’-এর এমন বিপুল পরিমাণে জমা দেওয়ার অনুমতি নেই। নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০টি আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে, মাত্র কয়েকজনই হাজার হাজার আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন—যা শুধু বিধিভঙ্গ নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি আঘাত।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও এদিন প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমরা নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলি, অথচ সেই গণতন্ত্রের প্রধান রক্ষক নির্বাচন কমিশনই এখন এই প্রক্রিয়াকে নির্বিকারভাবে ঘটতে দিচ্ছে।”
বিজেপির স্লোগান নিয়েও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, “যখন বিজেপি বলেছিল ‘পাল্টানো দরকার’, তখন আসলে তারা বলতে চেয়েছিল ‘ভোটার তালিকা পাল্টানো দরকার’। আর ‘পরিবর্তন’ বলতে তারা বুঝিয়েছে ‘জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন’, অর্থাৎ বাংলার নিজস্ব ভোটারদের সরিয়ে অন্য রাজ্য থেকে ভোটার এনে জায়গা পূরণ করা।”
