এদিন নজরুল মঞ্চে আয়োজিত ‘তফশিলি সংলাপ’ সম্মেলনে বক্ৃতা করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘যাঁরা একটা টিউবওয়েল লাগায়নি। তাঁরা যুবসাথী নিয়ে বিদ্রুপ করছে। আসলে গায়ের জ্বালা হয়েছে খুব। এক দল SIR করে মানুষকে রাস্তায় লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। আর এক দল যুবদের হাতে ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। ওরা ভাঙছে আমরা গড়ছি। ওরা কাড়ছে আমরা দিচ্ছি।’’
advertisement
এদিন নাম না করে বিজেপির রথযাত্রা নিয়েও কটাক্ষ করতে দেখা যায় অভিষেককে৷ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘‘জমিদারবাবুরা গতকাল থেকে রথ যাত্রা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতে রথ এই প্রথম দেখছি। দেব দেবীদের রথ যাত্রা দেখেছি। মানুষের পাশে থাকতে ময়দানে থাকতে হয়। এরা রথে থাকছে দেখছি।… উল্টো রথের প্রথা আমরা জানি। ওতে করেই গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ ফিরে যাবেন।’’
সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির ভোট নিজেদের দিকে টানতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে ঘাসফুল শিবির। মনে করা হচ্ছে, সে কথা মাথায় রেখেই এবার দলের তফশিলি জাতি (SC) , তফশিলি উপজাতি (ST) নেতাদের নিয়ে সভা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিনের সভামঞ্চ থেকে তফশিলি ‘ভাই-বোনে’দের একাধিক বার্তাও দিতে দেখা যায় অভিষেককে৷
বিজেপি শাসিত রাজ্যে তফশিলি জাতি-উপজাতির মানুষদের প্রসঙ্গ তুলে এদিন অভিষেক বলেন, ‘‘তপশিলি জাতির ক্ষেত্রে নির্যাতন ও আক্রমণের ঘটনায় গোল্ড মেডেল উত্তরপ্রদেশ, সিলভার মেডেল রাজস্থান ও ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ। এই তিনটে তথ্য কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। আদিবাসীদের উপর অত্যাচার মণিপুর, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বেশি হয়েছে। এরাও সেই ডাবল ইঞ্জিন সরকার। যারা প্রতি পদে পদে অত্যাচার করে এসসি, এসটি, ওবিসিদের উপর তারা সমাজের বন্ধু হতে পারে না। ’’
এরপরেই তফশিলি সম্প্রদায়ের মহিলাদের বিশেষ আশ্বাস দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘তপশিলি মহিলাদের দেওয়া হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কেন্দ্র টাকা দিক বা না দিক, রাজ্য আপনাকে টাকা দিচ্ছে।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘আগামী দুই মাস প্রচার করবেন আপনারা। সবাইকে এই প্রচার চালাতে হবে। গ্রামে যাবেন, ঘরে যাবেন। আমাদের কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে প্রচার করা। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না। ৮৪ বিধানসভা আছে এস সি, এসটি সমন্বিত। সেখানে বোঝাতে হবে বিজেপিকে ভোট দেওয়া আর খাল কেটে কুমীর আনা এক। যারা একবুক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল, তারা দেখুক বিজেপি কীভাবে অত্যাচার করেছে।’’
