এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না আমি জানি না। এখনও পর্যন্ত কেউ তাঁকে সামনে আনতে পারেনি। আমি শুনছি তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁর দেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা।”
তবে এর আগেই শুক্রবার ট্রাম্প আবার বলেছিলেন, মুজতবা খামেনেই হয়তো এখনও কোনওভাবে বেঁচে আছেন, যদিও তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে থাকতে পারেন। ফক্স নিউজ রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তিনি বেঁচে আছেন, তবে তিনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।”
advertisement
১৫তম দিন! তেলের আকাল, যুদ্ধ থামাতেই চাইছে ইরান, কিন্তু…ট্রাম্প যা বললেন! বাড়ল উদ্বেগ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মুজতবা খামেনেইকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মুজতবা খামেনেইকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রথম দিনেই তাঁর পায়ে চিড় ধরেছিল, বাম চোখে আঘাত লাগে এবং মুখে সামান্য ক্ষতও হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তোমাদের শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ আমরা নেবই।”
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলির মানুষকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ইরানের হাতে পর্যাপ্ত ক্যামেরা এবং রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন শুধুমাত্র লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, মুজতবা খামেনেই আহত, ভীত এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুজতবা খামেনেইকে ঘিরে নানা ব্যঙ্গচিত্র ও মিম ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনের দাবি, অনেকেই তাঁকে নিয়ে কৌতুক করে বলছেন তিনি যেন “এআই দ্বারা তৈরি সর্বোচ্চ নেতা”।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর খুব কম ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সরকারি সংবাদমাধ্যম এবং রাষ্ট্রপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে তাঁর এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই ভিডিওগুলিতে তাঁকে বড় জনসমাবেশে বক্তৃতা দিতে বা তাঁর বাবার সঙ্গে বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়—যা বাস্তবে কখনও ঘটেনি বলে দাবি করা হচ্ছে।
