হোয়াইট হাউসে এক দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা সম্ভব। তিনি ইঙ্গিত দেন, এক রাতেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলি ধ্বংস করে দেওয়া যেতে পারে। তেহরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানেনি বলেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, অন্য দেশগুলির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায়, যা তাদের সব শর্ত পূরণ করবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে হবে—এটিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
advertisement
ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাদের এমন একটি পরিকল্পনা রয়েছে যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তার চার ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো যেতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, চাইলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা সম্ভব। তবে তিনি এটাও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না, বরং একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি চায়। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনও চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলসহ সব ধরনের পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘পুরো দেশটাকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব’! এবার ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তারা পরিবর্তন চায়। তবে সম্ভাব্য হামলাকে ঘিরে যে মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি গুরুত্ব দেননি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এই সংঘাত নিয়ে।
