দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি বর্তমানে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন ও রাশিয়া।
‘একেবারেই ঠিক নয়’ এ আর রহমানের মন্তব্য ঘিরে সরব অনুপ জলোটারাও! বিরোধিতায় জাভেদ আখতার, শোভা দে, শান
advertisement
ট্রাম্পের বক্তব্য, ডেনমার্কের পক্ষে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, কেবলমাত্র আমেরিকাই ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করতে সক্ষম। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বকে তিনি আমেরিকার জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলি ইতিমধ্যেই অজানা উদ্দেশ্যে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছে, যা তাঁর মতে গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইউরোপের উপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আটটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি জানান, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত মূল্য না দিয়েই মার্কিন নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করে আসছে।
ট্রাম্পের দাবি, বহু বছর ধরে শুল্ক আরোপ না করে কার্যত ইউরোপীয় দেশগুলিকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে আমেরিকা। তাঁর কথায়, গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোনও চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা গত দেড়শো বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে এবং গ্রিনল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত না হলে সেই ব্যবস্থাগুলি পূর্ণ কার্যকারিতায় পৌঁছতে পারবে না।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে গ্রিনল্যান্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী নুক শহরে তীব্র শীতের মধ্যেই শত শত মানুষ রাস্তায় নামেন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। বিক্ষোভকারীরা গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ এবং ‘আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ি’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ডেনমার্কের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের প্রতিবাদের খবর পাওয়া গিয়েছে।
বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন কংগ্রেসের এক দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেনে গিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, সাম্প্রতিক মন্তব্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করাই ছিল এই সফরের উদ্দেশ্য।
এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ অত্যাবশ্যক। তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অন্য কোনও সমাধান তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই ইস্যুতে সহযোগিতা না করলে বাণিজ্যিক চাপ আরও বাড়ানো হতে পারে।
