ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বহু দেশ দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যে শোষণ করেছে। তাঁর দাবি, নতুন শুল্কহার আইনি দিক থেকে সম্পূর্ণ বৈধ ও পরীক্ষিত। “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আইনসিদ্ধ ১৫ শতাংশে নিয়ে যাচ্ছি,” পোস্টে লেখেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ অন্যায্য বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে।
advertisement
তিনি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় “অত্যন্ত দুর্বলভাবে লেখা এবং আমেরিকার স্বার্থবিরোধী।” দীর্ঘ পর্যালোচনার পর তাঁর প্রশাসন নতুন ও আইনসিদ্ধ শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করবে বলেও জানান ট্রাম্প।
নতুন বৈশ্বিক শুল্ক মার্কিন বাণিজ্য আইনের সেকশন ১২২-এর আওতায় আনা হয়েছে, যা ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস ট্যারিফ’ নামে পরিচিত। এই ধারায় প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন, যা ১৫০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে। তার পরবর্তী মেয়াদ বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এর আগে আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রশাসন সেকশন ১২২ প্রয়োগ করবে এবং সেকশন ৩০১-এর আওতায় একাধিক দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবে, যাদের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্য আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথও খুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান সমস্ত বাণিজ্য শুল্ক অবিলম্বে বহাল থাকবে।” সেকশন ১২২-এর অধীনে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক জারি করার নির্দেশ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে সার্বিক বা অর্থনীতিব্যাপী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
আদালতের মতে, ওই আইন জাতীয় জরুরি অবস্থায় নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয়, কিন্তু সার্বিক বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানফ এই রায়ের বিরোধিতা করেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস উল্লেখ করেন, কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবে স্পষ্ট ও সীমিত ক্ষমতা দিয়েই শুল্ক নির্ধারণের অধিকার প্রদান করেছে। আইইইপিএ-র বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
