ওই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দাবি করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল্য পরিশোধের ঘোর বিরোধিতা করেন। পুতিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত হল, ইউক্রেনকে সেইসব কৌশলগত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে, ১০ হাজারের বেশি সৈন্যের প্রাণের বিনিময়েও রাশিয়া যা দখল করতে পারেনি। জেলেনস্কি বলেন, পুতিন এরই মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করছেন। তাঁকে পিছু হটাতে একমাত্র উপায় ছিল তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।
advertisement
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পুতিন এরই মধ্যে এটি শুরু করেছেন। এখানে প্রশ্ন হল, তিনি কতটা ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম হবেন এবং তাঁকে কীভাবে থামানো যাবে…রাশিয়া বিশ্বে ভিন্ন এক জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায় এবং মানুষ নিজেদের জন্য যে জীবন বেছে নিয়েছে, সেটার পরিবর্তন করতে চায়।’
রাশিয়ার হাতে এখনও পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২০ শতাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইউক্রেন এই শহরগুলোকে ‘দুর্গ শহর’ বলে। সেগুলোসহ দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের আরও কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের দাবির ব্যাপারে প্রশ্না করা হয়েছিল সাক্ষাৎকারে। যদি এতে যুদ্ধবিরতি আসে, তবে এই দাবি মেনে নেওয়াই কি যুক্তিসংগত নয়?
উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখি। আমি এটিকে শুধু একটি ভূখণ্ড হিসেবে দেখি না। আমি এটিকে পরিত্যাগ করা হিসেবে দেখি—আমাদের অবস্থান দুর্বল করা এবং সেখানে বসবাসকারী আমাদের লাখ লাখ মানুষের হাত ছেড়ে দেওয়া হিসেবে দেখি। আমি বিষয়গুলো এভাবেই দেখি। আমি নিশ্চিত, এই “প্রত্যাহার” আমাদের সমাজকে বিভক্ত করবে।’
ওই সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন ছিল, ‘কিন্তু যদি এতে প্রেসিডেন্ট পুতিন সন্তুষ্ট হন, তাহলে এটিই ভালো মূল্য নয় কি? আপনি কি মনে করেন, এতে তিনি সন্তুষ্ট হবেন?’ জেলেনস্কি বলেন, ‘সম্ভবত এটি তাঁকে সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট করবে…তাঁর একটি বিরতি দরকার…কিন্তু একবার তিনি সামলে উঠলে…, আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারেরা বলেছেন, পুতিনের সামলে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু আমার মতে, তিনি এক বা দুই বছরের বেশি সময় নেবেন না। এরপর তিনি কোথায় যাবেন? আমরা জানি না, তবে একটি সত্য এটাও যে তিনি হয়ত যুদ্ধ আবার শুরু করতে চাইবেন।’
