রাশিয়ার ইরকুতস্ক শহরের গভর্নর ইগর কোবজেভ নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। গত শুক্রবারের এই দুর্ঘটনায় মিনিবাসটি হ্রদের প্রায় ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) গভীরে তলিয়ে যায়। বাস ও মরদেহ খুঁজে পেতে ডুবুরিদের জলের নিচে ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করতে হয়েছে।
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত বৈকালের সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৬৪২ মিটার (৫ হাজার ৩৮৭ ফুট)। প্রচণ্ড শীতের সময় এ হ্রদের জল অনেকটাই বরফ হয়ে যায় এবং নানা দুর্ঘটনা ঘটে। তবু এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। গভর্নর কোবজেভ বলেন, মিনিবাসটি শুক্রবার প্রায় তিন মিটার চওড়া একটি বরফের ফাটলে পড়ে যায়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, ‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এই মুহূর্তে বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর ভ্রমণে যাওয়াটা শুধু নিষিদ্ধই নয়, প্রাণঘাতীও।’
advertisement
পর্যটকদের বৈকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভ্রমণ পরিচালনাকারী ছাড়া অন্য কারও সহায়তা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। কোবজেভ আরও বলেন, নিহত চিনা পর্যটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিল। পর্যটকদের সবাই নিজেদের উদ্যোগে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট দিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন গভর্নর। তিনি লেখেন, ‘দুঃখজনক বিষয়, এ মর্মান্তিক ঘটনা থেকেও মানুষ শিক্ষা নেয়নি। শুক্র ও শনিবার পৃথক দুটি ঘটনায় বরফে আটকে পড়া গাড়ি থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করতে হয়েছে।’ এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে জমাট বাঁধা বৈকাল হ্রদের ওপর চলতে গিয়ে একটি গাড়ি উল্টে এক চিনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।
