মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে অনুসরণ করছে, যাতে ‘অবৈধ তেল’ পরিবহন আটকানো যায়। গত ডিসেম্বরে বেলা-১-এ মার্কিন বাহিনী ওঠার চেষ্টা করলে, জাহাজের ক্রু তা প্রতিহত করে। এরপর তারা রাশিয়ার পতাকা আঁকেন, নাম পরিবর্তন করে ‘মারিনেরা’ দেন এবং রেজিস্ট্রেশন রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ তেল পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলো আটকাচ্ছে, এই কারণে রাশিয়া উদ্বিগ্ন। কারণ রাশিয়ার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তারা ট্যাংকারটিকে কোনও পরীক্ষা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই রাশিয়ায় নিবন্ধন করার অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
advertisement
মঙ্গলবার রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতি উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা ‘নিষিদ্ধ জাহাজ ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’। বর্তমানে জাহাজটি ইস্টার্ন আটলান্টিকে যাচ্ছে। রাশিয়ার মিডিয়া আরটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন কোস্ট গার্ড ট্যাংকারটিকে অনুসরণ করছে।
আমেরিকা যখন ‘বেলা-১’ ট্যাংকারটিকে অনুসরণ করা শুরু করেছিল, তখন জাহাজটি কোনও দেশের পতাকা বহন করছিল না। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ওপর বিচারিক জব্দের আদেশও ছিল। আমেরিকা বলেছে, তারা বেলা ১-কে নিষিদ্ধ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এটি তেহরানের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন-নির্ধারিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে ইরানের কালোবাজারি তেল পরিবহন করছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নতুন রুশ রেজিস্ট্রেশন এখন আমেরিকার জন্য অভিযান চালানো জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একবার জাহাজ বৈধভাবে কোনো দেশে নিবন্ধিত হলে সেটি সেই দেশের পতাকার সুরক্ষা পায়। আমেরিকা ইতিমধ্যেই দুটি বড় তেল ট্যাংকার আটকিয়েছে (স্কিপার এবং সেঞ্চুরি), যা অবৈধ তেল পরিবহনের অংশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও ট্যাংকার আটকানো হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফ্লিটে এক হাজারের বেশি ট্যাংকার রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা অজানা এবং পশ্চিমা বীমা নেই।
