ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ায় থাকা ইরানের দূতাবাসগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই দুই আধিকারিকের ছবি প্রকাশ করে তাঁদের নাম জানায়—লেই রে টেট (কমান্ডিং অফিসার) এবং জেফ্রি ই. ইয়র্ক (এক্সিকিউটিভ অফিসার), যারা ইউএসএস স্প্রুয়ান্স জাহাজে কর্মরত। ইরানের অভিযোগ, তাঁদের নির্দেশেই তিনটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে এই ভয়াবহ হামলা ঘটে।
advertisement
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ পোস্ট করে ইরানের দূতাবাসগুলি ওই দুই আধিকারিককে “অপরাধী” বলে আখ্যা দেয় এবং জানায়, এই হামলায় ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার দূতাবাস থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়—কীভাবে এই ধরনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা ন্যায্যতা দিতে পারেন, এবং তাঁদের নিজেদের সন্তান থাকলে কি এমনটা করতেন?
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় এক বৈঠকে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, সংঘর্ষের প্রথম দিনেই ধাপে ধাপে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে ১৭৫ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, মার্কিন সেনার প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন ইঙ্গিত মিলেছে। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুরনো বা ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। আধিকারিকদের মতে, আসলে কাছাকাছি একটি সামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছিল, যা আগে ওই একই জায়গার অংশ ছিল। তবে মানচিত্রের ত্রুটির কারণে ভুলবশত স্কুলে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।
এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। কেন গোয়েন্দা তথ্য ঠিকমতো যাচাই করা হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না।
