অথচ কয়েকমাস আগে ভারত যখন রাশিয়ার থেকেই সস্তায় তেন কেনায় অনড় অবস্থান নিয়েছিল তখন এই ট্রাম্পই ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন৷ ট্রাম্পের দাবি ছিল, রাশিয়ার থেকে তেল কিনে মস্কোকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ জোগাতে সাহায্য করছিল নয়াদিল্লি৷
কিন্তু ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল এবং আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব জুড়েই জ্বালানি সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে৷ গোটা বিশ্বের মতো চাপে পড়ে গিয়েছে মার্কিন অর্থনীতিও৷ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেলের জোগান থমকে যাওয়ায় বিশ্ব বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তেলের দাম৷ এই অবস্থায় বিশ্ব বাজারে তেলের দামে ভারসাম্য আনতেই বাধ্য রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে নমনীয় হতে বাধ্য হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ গোটা বিশ্বের সামনে মুখ পুড়লেও তাই রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ এই পথ নিয়ে ওয়াশিংটনও প্রমাণ করে দিল রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে শায়েস্তা করার থেকেও এই বিশ্ব বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বেশি প্রয়োজন৷
advertisement
একই সঙ্গে আমেরিকার এই অবস্থান বদলে প্রমাণিত হল, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার যে নীতি ভারত নিয়েছে, তা সঠিক৷ কারণ রাশিয়া থেকে তেল কিনে তা পরিশোধনের পর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানিও করে ভারত৷ যার ফলে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা হলেও চালু ছিল৷
ভারতের মতো যে দেশগুলি রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি আমদানি করে, বিশ্ব বাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদেরও যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, আমেরিকার এই অবস্থান বদলে তা আবার প্রমাণিত হল৷ পশ্চিমী দুনিয়ার চোখরাঙানি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বজায় রেখেছিল৷ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধনের পর বিভিন্ন দেশকে তা রফতানিও করে ভারত৷ নয়াদিল্লির এই কৌশলের ফলেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তেলের দামে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা গিয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে আমেরিকাও৷
