ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বার্তায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বক্তব্য শোনানো হয়। তবে তিনি নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদপাঠক তাঁর বক্তব্য পাঠ করেন। কেন তিনি সরাসরি উপস্থিত হলেন না, সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
advertisement
‘হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে!’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম মুখ খুলেই কড়া অবস্থান মোজতবার
৫৬ বছর বয়সি মুজতবা খামেনেই তাঁর বক্তব্যে বাবার নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে অবিলম্বে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহতদের ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করে তাঁদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, যুদ্ধের প্রথম দফার হামলায় মুজতবা খামেনেই আহত হন। ওই হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েক জন সদস্য—মা, স্ত্রী, বোন ও ভাতিজি—নিহত হয়েছেন বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁকে ‘জানবাজ-এ-রমজান’ বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণত দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে বোঝাতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তাঁর পায়ের হাড়ে চিড় ধরা, বাঁ চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন এবং মুখে সামান্য কাটা রয়েছে। তবে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, নতুন ইরানি নেতা নাকি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এবং হামলায় তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। এমনকি তাঁর লিভার ও পেটে গুরুতর ক্ষতিও হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই সব দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
