মঙ্গলবার ইরান একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে সারিবদ্ধভাবে খোঁড়া একাধিক নতুন কবর দেখা যায়। দাবি করা হয়েছে, এগুলি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত ১৬০-এর বেশি স্কুলছাত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি এক্স মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করে জানান, কবরগুলি “১৬০-এর বেশি নিরীহ কিশোরীর”, যাদের দেহ বোমাবর্ষণে “ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে”।
advertisement
পোস্টে তিনি লেখেন, “এগুলি সেই কবর, যা খোঁড়া হচ্ছে ১৬০-এর বেশি নিরীহ কিশোরীর জন্য, যারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত হয়েছে। তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। মিস্টার ট্রাম্প যে ‘রেসকিউ’-র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা এমনই দেখাচ্ছে। গাজা থেকে মিনাব— নিরীহ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হচ্ছে।” এ ভাবেই কি ট্রাম্প ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাঁটছেন? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী ও বিদ্যালয়ের কর্মীদের গণশেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়— এমনটাই দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের। অঞ্চলজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই শনিবার এই হামলা হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, হামলায় প্রথমে ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পরে ইরান রেড ক্রিসেন্ট জানায়, মৃতের সংখ্যা ১০৮-এ পৌঁছেছে। প্রাদেশিক প্রশাসন রবিবার জানায়, অনুসন্ধান ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শেষ হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫।
অন্যদিকে, রবিবার এক ইজরায়েলি সামরিক মুখপাত্র জানান, ওই বিদ্যালয়ে মার্কিন বা ইজরায়েলি হামলার বিষয়ে তাঁদের কোনও তথ্য নেই। লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, “এই মুহূর্তে সেখানে ইজরায়েল বা আমেরিকার কোনও হামলার বিষয়ে আমরা অবগত নই। আমাদের অভিযান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”
মার্কিন সেনাবাহিনী সেন্টকমের তরফে নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে জানানো হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযানের ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
