ফ্লরিডার মার-আ-লাগোয় সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা শহর অন্ধকারে ডুবে যায়। ট্রাম্পের দাবি, “গতকাল আমেরিকা যা করে দেখিয়েছে, বিশ্বের আর কোনও দেশ তা পারেনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সামরিক ক্ষমতা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আমাদের সেনাবাহিনী ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাদুরোকে সফলভাবে আটক করে। এটা ছিল এক ভয়ঙ্কর, অত্যন্ত জটিল অভিযান।”
advertisement
‘জানুয়ারি গেলে সুর নরম হবে লালু ,কেজরিওয়াল এখন সব ইতিহাস’! অভিষেকের মন্তব্যে পাল্টা দিলেন দিলীপ!
বন্দে ভারত স্লিপার কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে? কত ভাড়া? পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন
রিপোর্ট অনুযায়ী, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা ফোর্ট টিউনা কমপ্লেক্সে নিজেদের বাসভবনে ঘুমিয়ে ছিলেন মাদুরো ও ফ্লোরেস। সেই সময়ই মার্কিন কমান্ডোরা বাড়িতে ঢুকে তাঁদের শয়নকক্ষ থেকে টেনে বের করে নিয়ে যায়। অভিযানটি পরিচালনা করে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স, সহায়তায় ছিল এফবিআই। গোটা অভিযান আধঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানে কোনও মার্কিন সেনা নিহত হননি।
অভিযান নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে তাঁর ভাষায় এক “দুর্গ” থেকেই সরিয়ে আনা হয়েছে। ফক্স নিউজকে ফোনে ট্রাম্প বলেন, “ও ছিল একেবারে দুর্গে। আমাদের কারও মৃত্যু না হওয়াটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।” তিনি আরও জানান, “দু’একজন আহত হয়েছিল, কিন্তু তারা ফিরে এসেছে এবং মোটামুটি ভাল অবস্থায় আছে।”
শনিবার ভোররাতে চালানো এই দ্রুত অভিযানের পর মাদুরো ও ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিরুদ্ধে নার্কো-সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলায় বিচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারাকাসের বাসিন্দারা জানান, অভিযানের সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ হয়, যা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি। ভেনেজুয়েলার উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, এই ঘটনায় সাধারণ নাগরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন, যদিও সংখ্যার বিস্তারিত তিনি জানাননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলার শাসনভার নেওয়ার দায়িত্ব নেবে মার্কিন প্রশাসন এবং সেই রূপান্তর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অভিযানের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ভেনেজুয়েলার উপর কয়েক মাস ধরে চাপ বাড়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহ ধরে নজরদারির মাধ্যমে মাদুরোর দৈনন্দিন অভ্যাস—যাতায়াত, খাবার এবং ঘুমের সময়সূচি—পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।
