বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত দু জন সূত্রকে উদ্ধৃত করে ফিনান্সিয়াল টাইমস দাবি করেছে, তেহরান জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ট্রাফিক সিগন্যালগুলিতে বসানো ক্যামেরাগুলিকে হ্যাক করে খামেনেইয়ের দেহরক্ষী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ইরানের শীর্ষ আধিকারিকদের উপরে নজর রাখছিল ইজরায়েল৷
ট্রাফিক সিগন্যালে বসানো ক্যামেরাগুলি ইরানের সরকারি নজরদারি ব্যবস্থারই অংশ৷ এই ক্যামেরাগুলি ব্যবহার করেই সরকার বিরোধী বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের উপরে এতদিন নজরদারি চালাত খামেনেই সরকার৷
advertisement
ফিনান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরাগুলির উপরে নজর রাখছিল ইজরায়েল৷ সেই নজরদারিতেই তারা দেখতে পায়, তেহরানের এক জায়গায় এমন ভাবে একটি ক্যামেরা রয়েছে, যেটি খামেনেইয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি কোথায় দাঁড় করানো থাকে তা ধরা পড়ছে৷
এই সূত্র ধরেই ওই নিরাপত্তারক্ষীদের ঠিকানা, তাঁদের কাজের সময়সূচি এবং তাঁরা কাদের কাদের নিরাপত্তা দেন, সেই সমস্ত তথ্য বের করে ফেলে ইজরায়েল৷
খামেনেইকে ইরানের প্যাসটিওর স্ট্রিটে হত্যা করে আমেরিকা এবং ইজরায়েল৷ সূত্রের খবর, এই রাস্তার মোবাইল বা সেলুলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও আগে থেকে অকেজো করে রেখেছিল ইজরায়েল এবং আমেরিকা৷ ফলে, হামলার আগাম খবর পেলেও ইরানের গোয়েন্দা বিভাগ বা অন্য কেউ ফোনে খামেনেইয়ের নিরাপত্তা রক্ষী অথবা তাঁর সঙ্গে থাকা কাউকে সতর্কও করতে পারেননি৷
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেছেন, আমরা জেরজালামের রাস্তাঘাট যেমন ভাল ভাবে চিনি, সেরকমই তেহরানও আমাদের কাছে পরিচিত জায়গা৷ ওই আধিকারিক আরও বলেন, আপনি ছোট থেকে যেখানে বড় হয়েছেন, সেই এলাকায় যদি ছোটাখাটো কোনও পরিবর্তন অথবা অস্বাভাবিকতা ঘটে, তাহলেও তা সঙ্গে সঙ্গে আপনার চোখে ধরা পড়বে৷
ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ পদাধিকারীদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালিয়ে যে পাহাড় প্রমাণ তথ্য তাদের হাতে এসেছিল, সেগুলি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু বের করার জন্য এআই-এর সাহায্য নেয় ইজরায়েল৷ সেই সূত্রেই শনিবার খামেনেইয়ের ওই গোপন বৈঠকের তথ্য তাদের হাতে আসে৷
এর পাশাপাশি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর একজন গুপ্তচরও খামেনেইয়ের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন বলে খবর৷
