ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে ‘নতুন দফায় ব্যাপক বিমান হামলা’ শুরু করার ঘোষণা করার পরই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ৪ মার্চও এই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সে সময় তারা দাবি করেছিল, ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য হুমকি—এমন প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে এই হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার তৈরির অংশটিও ছিল।
advertisement
নতুন করে চালানো হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুক্রবার রাতের বোমাবর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
এদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ৬টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বাহিনী ঠেকিয়ে দিয়েছে। ড্রোনগুলো সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল মরুভূমি ‘এম্পটি কোয়ার্টারে’ শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এলাকাটিতে শায়বাহের মতো সমৃদ্ধ তেলক্ষেত্র রয়েছে। শায়বাহ তেলক্ষেত্রই এই হামলার লক্ষ্য ছিল।
সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি আরামকো জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রটি থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। এদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল। ইরানে হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন বিমানবাহিনী ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছিল।
এদিকে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইজরায়েলের দক্ষিণের নেগেভ মরুভূমির বীরশেবা এবং একেবারে উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন ও ক্ষেপণাস্ত্র অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান কৌশল হল ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব চাপে রাখা। অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইজরায়েলের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমিয়ে ফেলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
