ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈপরীত্যপূর্ণ মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘যুদ্ধ প্রায় শেষ’ এবং ‘পুরো জয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে’— এই দুই ভিন্নধর্মী বার্তার পাল্টায় ইরান সরাসরি জানিয়ে দিল, যুদ্ধের সমাপ্তি কবে হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে প্রত্যাঘাত কবে থামানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। ওই অঞ্চলের ভবিষ্যৎও এখন তেহরানেরই হাতে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসেছেন আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই। আর তা করেই তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, এত তাড়াতাড়ি আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত থামাতে তারা নারাজ।
advertisement
লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ছুড়েছে ইজরায়েল। এমনটাই জানাল আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ। হিজবুল্লার সংঘর্ষে জড়িয়েছে ইজরায়েল। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লা দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় লেবাননে। জানা গিয়েছে, লেবাননে পর পর হামলা চালিয়েছে ইরান। সাদা ফসফরাস কোনও সাধারণ বিস্ফোরক নয়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক রাসায়নিক। এই মোমের মতো রাসায়নিকটি বাতাসের সংস্পর্শে এলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অক্সিজেনের সঙ্গে জ্বলে ওঠে। এটি প্রায় ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে। যেখানে ৫০-৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মানুষের শরীর পুড়তে শুরু করে, সেখানে ৮১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা কতটা ভয়ঙ্কর তা আঁচ করা যায়। এটি ত্বকের সংস্পর্শে এলে মাংস গলে যায়। এর ক্ষত কখনও সারে না। এর ধোঁয়া ফুসফুসে এত মারাত্মকভাবে ক্ষত সৃষ্টি করে।
৭ মার্চ যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইজরায়েল ইরানের তেল স্থাপন কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়। তেহরানের আশেপাশে ৩০টিরও বেশি জ্বালানি ডিপো, শোধনাগার এবং সংরক্ষণাগারে হামলা চালায়। এই হামলার ফলে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল আগদাসিহ গুদাম, তেহরান শোধনাগার, শাহরান ও শাহ তেল ডিপো এবং আলবোর্জ প্রদেশের কারাজে একটি স্থাপনা। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং এলাকায় বিষাক্ত ধোঁয়া এবং অ্যাসিড বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।
