পশ্চিম এশিয়াতে চলা যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যেই তাদের ভয়ঙ্কর অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি ছেড়ে দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ‘Operation True Promise ৪’-এ তাদের বিখ্যাত ‘Dancing Missile’ সেজ্জিল-২-কে আমেরিকান ঘাঁটি-র বিরুদ্ধে প্রথমবার ব্যবহার করেছে। এখনও ইরান-র ঝুলিতে এমন অনেক অস্ত্র আছে, যেগুলো আমেরিকার অ্যাডভান্সড টেকনোলজিকে ভালই টক্কর দিতে পারে ৷ সেজ্জিল-২ সেই অস্ত্রর একটা, যার ভয় ইজরায়েল ১২ দিনের ছোট যুদ্ধে আগেই দেখে নিয়েছে।
advertisement
সেজ্জিল-২ ইরানের দ্বিতীয় প্রজন্মের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটা দুই ধাপের এবং কঠিন জ্বালানিতে চলে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর মতে, এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস ১.২৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ২৩,৬০০ কিলোগ্রাম। এটা ৭০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করতে পারে। এর আঘাত করার ক্ষমতা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, মানে ইরান থেকে সরাসরি ইজরায়েল, সৌদি আরব, কুয়েত, এরবিলের আমেরিকার ঘাঁটি পর্যন্ত এটি পৌঁছতে পারে।
Photo: X
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র কী?
সেজ্জিল ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি দুই-ধাপের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এতে ব্যবহৃত হয় সলিড প্রপেল্যান্ট, যা দ্রুত প্রস্তুতি ও ছোড়ার সক্ষমতা বাড়ায়।
এটি মিডিয়াম-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় উড়তে পারে।
বহন করতে পারে প্রায় ৭০০ কেজি পে-লোড।
‘ডান্সিং মিসাইল’ নামটি এসেছে তার উচ্চতায় দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার জন্য, যা ইজরায়েলের আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে সাহায্য করে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস ১.২৫ মিটার, ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কেজি।
পরীক্ষা ও ব্যবহার
সেজ্জিলের প্রথম পরীক্ষা হয়েছিল ২০০৮ সালে, যেখানে এটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উড়েছিল।
এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় পরীক্ষা, পরে আরও চার বার পরীক্ষা হয়েছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এটির এই প্রথম ব্যবহার।
আমেরিকা-র বিরুদ্ধে প্রথম ব্যবহার:
IRGC-র সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী সেজিল-২ কে আল-হারির এয়ার বেস, আলি আল সেলেম এয়ার বেস এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মিসাইল ও ড্রোন-র সঙ্গে লঞ্চ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই হামলায় আমেরিকার ঘাঁটিগুলোতে প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকায় হইচই পড়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেজ্জিল-২-এর এই প্রথম আমেরিকান টার্গেট ব্যবহার ইরানের কৌশলে বড় পরিবর্তন। আগে এটা শুধু ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সীমিত ছিল, কিন্তু এখন পুরো এলাকায় আমেরিকার উপস্থিতিকে এটি চ্যালেঞ্জ করছে।
সেজ্জিল-২ কে ইন্টারসেপ্ট করা খুবই কঠিন। এর বেশি জ্বালানি, দ্রুত লঞ্চ আর ম্যানুভারিং ক্ষমতা আমেরিকান প্যাট্রিয়ট বা ইজরায়েলি অ্যারো সিস্টেমকেও সমস্যায় ফেলে দেয়। ইরানি ইঞ্জিনিয়াররা এতে অ্যান্টি-রাডার কোটিংও দিয়েছেন। ৫৯ ফুট লম্বা এই মিসাইল ৭ কুইন্টাল পেলোড নিয়ে শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে নাচতে নাচতে টার্গেট ভেদ করে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে বাড়তে থাকা টেনশনের মধ্যে সেজ্জিল-২ ইরানের মিসাইল ক্ষমতার এখন প্রতীক হয়ে উঠেছে। IRGC কমান্ডাররা বলছেন, আমেরিকান অ্যাডভান্সড টেকনোলজিও এখন এই ইরানি অস্ত্রের মোকাবিলা করতে পারছে না।
