সূত্রের খবর, ইসলামাবাদ মডেল জেলটি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, জরুরি প্রতিক্রিয়া ইউনিট এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা দিয়ে সাজানো হচ্ছে। সম্প্রতি আদালত-নিযুক্ত আমিকাস কিউরির প্রতিবেদনে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়’ BNP ক্ষমতায় আসতেই মুখ খুললেন হাসিনা! বললেন, প্রহসনের ভোট!
advertisement
মোহসিন নাকভি বলেন, “উচ্চপ্রোফাইল বন্দিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।” আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ ও নিরাপত্তা নিরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায় চলছে।
এই পদক্ষেপের ফলে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের উপর নির্ভরতা কমবে। অতিরিক্ত ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও উচ্চপ্রোফাইল বন্দিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে আদিয়ালা জেল আগে থেকেই সমালোচিত।
মডেল জেলে বহুস্তরীয় নজরদারি, সীমিত প্রবেশাধিকার অঞ্চল এবং শক্তিশালী সীমানা নিরাপত্তা থাকবে। কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদভিত্তিক আদালতে শুনানির ক্ষেত্রে বারবার রাওয়ালপিন্ডি থেকে আনা-নেওয়ার প্রয়োজন কমবে, ফলে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপও হ্রাস পাবে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত আমিকাস কিউরি সালমান সাফদার এক প্রতিবেদনে জানান, আদিয়ালা জেলে প্রায় তিন বছর অবস্থানের সময় দেরিতে চিকিৎসার কারণে ইমরান খান তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টি হারিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তিনি ঝাপসা দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বারবার কারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও যথাযথ চিকিৎসা পাননি। পরে Pakistan Institute of Medical Sciences (পিমস) হাসপাতালে তাঁর রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ধরা পড়ে। বর্তমানে আক্রান্ত চোখে তাঁর মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইমরান খান দুই বছরের বেশি সময় ধরে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন। তাঁকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দন্ত চিকিৎসা ও সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আইনজীবীর প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে সীমিত ছিল। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সপ্তাহে ৩০ মিনিটের সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে মাত্র দুইবার যোগাযোগ হয়েছে। প্রধান আইনজীবীর সঙ্গে পাঁচ মাস সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর আইনি প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
