সোমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাম্প্রতিকতম অস্থিরতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন জিনপিং৷ বলেন, ‘‘প্রত্যেকটা দেশেরই উচিত যে কোনও দেশের মানুষের বেছে নেওয়া স্বাধীন নিজস্ব উন্নয়নের পদ্ধতিকে সম্মান করা৷ সেটাই নীতি, সেটাই আন্তর্জাতিক আইন বলে৷ এবং বিশেষ করে ক্ষমতাশীল দেশগুলির উচিত এ বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়া৷’’
advertisement
জিনপিংয়ের কথায়, ‘‘বর্তমানে বিশ্ব যে ধরনের পরিবর্তন এবং অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা এক শতাব্দীতেও দেখা যায়নি। একতরফা আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’’ যদিও নিজের বক্তব্যে কোথাও আমেরিকার নাম উল্লেখ করেননি জিনপিং৷
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলার পূর্বতন প্রেসিডেন্ট উগো চাভজের সময় থেকেই চিন এবং ভেনেজুয়েলা দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের ধারা চলে আসছে৷ এমনকি, ভেনেজুয়েলার বিরাট তৈল ভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিন৷ মাদুরোর সরকারের পতন বেজিংয়ের কাছে একটা বড় ধাক্কা বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল৷ কারণ, মাদুরোর আমলেই সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রের একাধিক খাতে চিনা বিনিয়োগ বেড়েছে৷ ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী চিনই৷ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রেও চিনই প্রথম স্থানে৷
মাদুরোর অপরহরণের পরই বেজিং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীয়ের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছিল৷ বলেছিল, ‘‘কোনও দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই ধরনের বলপ্রয়োগের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে চিন৷’’
সোমবার আদালতে হাজির করা হতে পারে ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। ম্যানহাটনের এক আদালতের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে সোমবার ফেডারেল ম্যানহাটন আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২:০০টা নাগাদ ছিল শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
শনিবার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ছবিতে হাতকড়া পরা, ধূসর সোয়েটপ্যান্ট পরা এবং কালো চশমা পরা মাদুরোকে মার্কিন হেফাজতে দেখা যায়। আমেরিকার তরফে জানানো হয়, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আগে মার্কিন সামরিক কর্মীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। মাদুরো এবং ফ্লোরেসকে ইউএসএস ইও জিমায় রাখা হয়েছিল, যা গুয়ান্তানামো বেতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থামে, পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।
