Balochistan Liberation Army জানায়, হাওয়া বালোচ এবং আসিফা মেঙ্গল নামে দুই মহিলা যোদ্ধা বালোচিস্তানে সাম্প্রতিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযান একাধিক জেলায় ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে।
advertisement
পর পর হামলায় রক্তাক্ত বালোচিস্তান! নেপথ্যে আসল মাথা দুই মহিলা! কী করেছেন তাঁরা জানেন? চমকে উঠবেন শুনে
৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে সম্মানিত দলাই লামা! ঝুলিতে এবার নয়া প্রাপ্তি
বিএলএ দাবি করেছে, অভিযানের আগে দুই মহিলা যোদ্ধার উচ্চমানের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। সংগঠনের মতে, মহিলা যোদ্ধা নিয়োগ তাদের কৌশলগত ও আদর্শগত বিবর্তনের প্রতিফলন। ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ টু’ নামে এই অভিযান ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বলে জানানো হয়েছে, যেখানে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়।
পর পর হামলায় রক্তাক্ত বালোচিস্তান! নেপথ্যে আসল মাথা দুই মহিলা! কী করেছেন তাঁরা জানেন? চমকে উঠবেন শুনে
বিএলএ-র আরও দাবি, চেকপোস্টে মহিলাদের তল্লাশি সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগাতেই মহিলা যোদ্ধাদের মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে তারা উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।
সংবাদ সংস্থা আইএএনএস উদ্ধৃত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, বিএলএ তাদের ‘হাক্কাল’ নামের চ্যানেলের মাধ্যমে একাধিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে সংঘর্ষ গোটা প্রদেশজুড়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই বিবৃতিগুলির একটিতে সংগঠনটি গ্বাদারে সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশ করে এবং সেখানে হাওয়া বালোচকে ‘দ্রোশুম’ ছদ্মনামে এক মহিলা ফিদায়েন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিএলএ-র দাবি, ওই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যুদ্ধে নিহত তাঁর বাবা নবি বখশের মৃত্যুর সঙ্গে হাওয়া বালোচের সংগঠনে যোগ দেওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
বিএলএ আরও জানায়, হাওয়া বালোচ মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে একটি অডিও-ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন। সেই রেকর্ডিংকে সংগঠনটি তাঁর “চূড়ান্ত বার্তা” বলে উল্লেখ করেছে। ওই বার্তায় হাওয়া বালোচ বালোচ মহিলাদের সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএলএ দ্বিতীয় তরুণীর পরিচয়ও প্রকাশ করে। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সি আসিফা মেঙ্গল ৩১ জানুয়ারি একটি গাড়ি-বোমা হামলা চালান। লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা Inter-Services Intelligence (আইএসআই)-এর সদর দফতর, যা বালোচিস্তানের নোশকি এলাকায় অবস্থিত। বিএলএ-র বক্তব্য, ওই হামলায় আসিফা মেঙ্গল সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং সেটি ছিল একটি ভেহিকল-বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (VBIED) আক্রমণ।
এই সব দাবিই বালোচ বিদ্রোহী সংগঠনের তরফে করা হয়েছে। পাকিস্তানি প্রশাসন এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট তথ্যগুলির সরকারি ভাবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়নি। তবে একের পর এক হামলা, মহিলা যোদ্ধার ভূমিকা এবং উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত—সব মিলিয়ে বালোচিস্তানে পরিস্থিতি যে আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে গত শনিবার থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লাগাতার হামলায় কেঁপে উঠেছে প্রদেশের একাধিক এলাকা। এই হামলাগুলির নেপথ্যে এই দুই তরুণী জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি সেনার দাবি, হামলার পর টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে চালানো অভিযানে ১৪৩ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। যদিও এই সংঘর্ষে সেনা সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
