ভিন্নমতাবলম্বী কিংবা কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ যদি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে—এমন সতর্কবার্তাও দেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলারও দায়িত্ব পালন করেছেন।
advertisement
ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি শুরু থেকেই শাসনব্যবস্থার ভেতরের মানুষ। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আলোচনা তদারকি করছিলেন। আজ রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি আমেরিকা ও ইজরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকা ও ইজরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন। গত অগাস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি)-এর সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে লারিজানি খামেনির একজন বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি পান। গত মাসেও তিনি ওমানে গিয়ে আমেরিকার সঙ্গে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন।
বাস্তববাদী ভাবমূর্তি থাকলেও গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে চলা বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লারিজানির ভূমিকা ছিল কঠোর। আমেরিকা দাবি করেছে, লারিজানিই প্রথম সারির নেতাদের একজন, যিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ডাক দিয়েছিলেন। কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, সেই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। লারিজানি অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে হওয়া আন্দোলনকে ‘জনগণের প্রতিবাদ’ বললেও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘শহুরে আধা সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লারিজানি একসময় রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কট্টর সমর্থক ছিলেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাবকে তিনি ‘একটি মুক্তার বদলে ক্যান্ডি বার নেওয়া’,এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও ইরানের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। তবে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হওয়ার এই চরম সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে একজন দক্ষ ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
