TRENDING:

মহালয়াতে এরা ফিরে আসে, আঁকড়ে থাকে নস্টালজিয়ায় !

Last Updated:

সকাল থেকেই মিত্তির বাড়িতে তুমুল শোরগোল ৷ বড় গিন্নি থেকে ছোটকা সবাই এ ঘর ও ঘর ঘুরছে ৷ দাদু সকাল থেকে চিলচিৎকার শুরু করেছে ৷ ‘

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
#কলকাতা: সকাল থেকেই মিত্তির বাড়িতে তুমুল শোরগোল ৷ বড় গিন্নি থেকে ছোটকা সবাই এ ঘর ও ঘর ঘুরছে ৷ দাদু সকাল থেকে চিলচিৎকার শুরু করেছে ৷ ‘ওরে তোরা বড় চারখানা ব্যাটারি আনবি, নাকি বুড়ো বয়সে আমি যাব বাজারে !’ অন্য ঘরে পাপাই কিন্তু বিন্দাস বেলা ১২টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে, চায়ে চুমুক দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ঘাটছে ৷ আর বোঝার চেষ্টা করছে, হচ্ছেটা কি?
advertisement

অমনি পাপাইয়ের ফেসবুকে ভেসে এল ‘মহালয়া ফটোশোপ’ ! ব্যস, একে একে দুই, আর দুইয়ে দুইয়ে চার ৷ আজ রাত পোহালেই তো ভোরে মহালয়া ৷ আর সেই মহালয়া নিয়েই সকাল থেকে শোরগোল ৷

মিত্তির বাড়িতে প্রতিবারই একই অবস্থা ৷ এককালে পুজো হতো ৷ এক কালে আলপনা পরত উঠনে ৷ আমপাতা ঝুলত বারান্দা থেকে ৷ ঠাকুর তৈরি হতো ঠাকুর দালানে ৷ আজ এ সব হয় না ৷ শুধু দাদুর ঘর থেকে ভেসে আসে মহালয়ার গান ৷ আর বাড়ির বড়রা সকালেই বেরিয়ে পড়ত তিল তর্পনে ! আর সেই মহালয়ার জন্যই সকাল সকাল পুরনো আলমারি থেকে পুরনো বাসনপত্র, দাদুর আমলের রেডিও-র সেকি যত্ন-আর্তি ৷

advertisement

উঠোনে বসে কাজের দিদির তেঁতুল দিয়ে বাসন মাজা শুরু ৷ বড় তামার পাত্রের পাশে নড়ে চড়ে উঠছে পুরনো কোশাকুসি ৷ জ্যাঠু সকালেই বেরিয়ে পড়েছে হাওড়ার ফুল মার্কেটে, গাঁদা, পদ্ম না আনলেই নয়৷ বাড়ির পাশ থেকে নয়, ম্যানেজ হয়ে যাবে শিউলি ৷ ভোরে যখন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র গলা ছাড়বেন, চারিপাশে তখন পুজোর সাজ ৷ ধূপকাঠির গন্ধ আর কুয়াশা মাখা ঠান্ডা হাওয়া ৷ এ বাড়ির এই চল ছোটো থেকেই ৷ আর তাই তো নস্টালিজিয়ায় আটকে সাত থেকে সতেরো, সতেরো থেকে এখন সাতাশ ৷ বাড়ির দেওয়া বদলেছে ৷ পুরনো মানুষ নেই ৷ নতুন মানুষ এসেছে ৷ কিন্তু নিয়মনীতি চলছেই ৷ চলছে সেই পুরনো রেডিও, পুরনো তামার পাত্র ৷ আর সেই পুরনো মহালয়ার গান ৷

advertisement

মোবাইল এসেছে ৷ ফিচার ফোন থেকে টাচ ফোন ৷ এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপ ৷ ডিজিটাল মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে ভাবনারা ৷ তবুও বিশেষ দিনে সেই আটকে পড়া পুরনো খাতা-কলমে ৷ নতুনত্বের সঙ্গেই ফের যেন পুরনোকে ধরে আঁকড়ে থাকা ৷ ঠিক যেন ভোর চারটের মহালয়ার গান !

advertisement

এই সবই যেন বার বার চিৎকার করে বলে উঠছে আমরা সবাই বাঙালির নস্টালজিয়া৷ যত দিন যায় ততই পিছনে সরতে থাকি আমরা৷মাঝে মাঝে ফাঁক ফুকর দিয়ে বেরিয়ে পড়লেও সমবেদনার ছাপ৷ আমরা ইতিহাস৷আমরা পুরনো আমরা অ্যান্টিক৷ আমাদের ব্যবহার শুধুই দিন মাপা৷ কিম্বা কোনও পিরিয়ড সিনেমায় এক্সট্রার পাঠ৷ তবে দুঃখ নেই৷ নতুনের খেলা এরকমই৷অবিরাম চলতে থাকে৷যারা এখন ইন, তারাও ক্ষণিকের মাত্রা৷ একটু জায়গা রেখও ভাই৷হয়ত কয়েকদিন বাদে তোমার পাশেই জায়গা নেবে তারাও৷কিম্বা আমরা জায়গা ছেড়ে দিয়ে একেবারেই উড়ে যাবও মিউজিয়ামের বন্ধ কাচে মোরা বাক্সে৷ পাশে লেখা থাকবে সাল, তারিখ, দিন, ক্ষণ৷

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
পুকুরে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন যুবক! উদ্ধারে সেভেন ব্যাটালিয়ন, ২০ ঘণ্টা পর মিলল দেহ
আরও দেখুন

তবে এটা ভেবেই শান্তি তখনও মনে পড়ব বিশেষ কিছু দিনে৷ অত্যন্ত ততদিন, যতদিন না কোনও মেশিন আবিষ্কার হচ্ছে নস্টালজিয়া মোছার ৷

বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
মহালয়াতে এরা ফিরে আসে, আঁকড়ে থাকে নস্টালজিয়ায় !