হৃতিক রোশন তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্টটি শেয়ার করেছেন। তিনি এর পক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি পরিষ্কার ও স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “হ্যাঁ, খারাপ ভিএফএক্স হয়েই থাকে। কখনও কখনও তা এতটাই খারাপ হয় যে দেখাটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আমার জন্য, এবং বিশেষ করে যখন আমি সিনেমাটির একটি অংশ।”
advertisement
হৃতিক রোশন স্মরণ করেছেন, কীভাবে ১১ বছর বয়সে লন্ডনে ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ ছবিটি দেখার পর তাঁর জীবন বদলে গিয়েছিল। তিনি লিখেছেন, “আমি ওই ছবিটার প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলাম। বাবার ভিএইচএস প্লেয়ারে আমি ছবিটি এক এক করে দেখতাম, এতবার পজ ও প্লে করতাম যে প্লেয়ারটাই নষ্ট করে ফেলেছিলাম। পকেট মানি দিয়ে আমি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিক: দ্য আর্ট অফ স্পেশাল এফেক্টস’ নামের একটি বই অর্ডার করেছিলাম এবং জুহু পোস্ট অফিসে মাসের পর মাস সেটির জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। ওটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন; বইটার গন্ধটা আমার আজও মনে আছে।”
একটি পোস্টে হৃতিক রোশন সেইসব নির্মাতাদের পক্ষ নিয়েছেন, যাঁরা বড় মাপের ভিএফএক্স ব্যবহার করে ছবি বানানোর ঝুঁকি নেন। তিনি বলেন, “কল্কি, বাহুবলী, এবং রামায়ণের মতো ছবির নির্মাতারা (এবং আমার বাবা, যিনি ‘কোই মিল গয়া’ ও ‘কৃষ’ বানিয়েছেন) আমার নায়ক। সিনেমার প্রতি ভালবাসার টানে নতুন কিছু করার সাহস ও দূরদৃষ্টি তাঁদের আছে। আমার মতে, তাঁরা নিজেদের অর্থ এবং বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রমকে ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন, যাতে আজকের ১১ বছরের একটি শিশু সেই একই জাদুর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে, যা আমি ছোটবেলায় পেয়েছিলাম।”
তিনি ভিএফএক্স-এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো খুব আকর্ষণীয়ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। হৃতিক বলেন যে, সব সিনেমার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হওয়া নয়। তিনি লিখেছেন, “খারাপ ভিএফএক্স হল যখন কোনোও সিনেমা ফটোরিয়ালিজমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, যেখানে পদার্থবিদ্যা বা মাধ্যাকর্ষণের সামান্যতম ত্রুটিও পুরো বিভ্রমটি ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু যদি কোনও সিনেমা জাদুকরী গল্পের বইয়ের মতো শৈলীতে তৈরি হয় এবং তা সুন্দর বা স্বর্গীয় মনে না হয়, তবে সেটি একটি ত্রুটি। কিন্তু এটা বলা ভুল যে গল্পের বইয়ের শৈলীটি বাস্তব মনে হয় না, কারণ এটি সেভাবে তৈরি করা হয়নি।”
নিজের বক্তব্য শেষ করার সময় হৃতিক দর্শকদের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, “একজন নির্মাতা আপনার অপছন্দের একটি শৈলী বেছে নিয়েছেন বলেই আপনি তাঁর সমালোচনা করতে পারেন না। আপনি যাকে খারাপ ভিএফএক্স বলেন, তা সম্ভবত এমন একটি ভিন্ন শৈলী যা আপনি আশা করেননি। পরেরবার কোন সিনেমাও দেখার সময় জিজ্ঞাসা করবেন না, ‘এটি কি মৌলিক?’ পরিবর্তে জিজ্ঞাসা করুন, ‘এটি কি গল্পের সঙ্গে মানানসই?’ এটি কি আপনাকে সেই অনুভূতি দিতে পারে যা পরিচালক দিতে চান? বিতর্ক করুন, কিন্তু জ্ঞান দিয়ে।”
