প্রথমেই বলা যেতে পারে যে, বহু প্রতীক্ষিত এই সিক্যুয়েল দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে — এই ছবিতে সেরার সেরা অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে। আসলে পরিচালক আদিত্য ধর নিজের তৈরি করে রাখা রেকর্ডই যেন ‘ধুরন্ধর’ ছবির সিক্যুয়েলে ভেঙে ফেলেছেন। আর এই ছবিতে অ্যাকশনের মানও ছিল তুখোড়। বলা ভাল যে, এত দিন বলিউডে যে ধরনের অ্যাকশন দেখতে দর্শকরা অভ্যস্ত ছিলেন, সেই সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছেন আদিত্য। ফলে ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ ছবিতে হিংসা-মারামারিটা দুর্দান্ত ভাবে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
advertisement
শুধু অ্যাকশনের কথা বলাই যথেষ্ট নয়। কথা বলতে হবে গল্প বলার ধরন নিয়েও। আসলে ‘ধুরন্ধর ২’-এ যেভাবে পরিচালক গল্পটা সাজিয়েছেন, সেটা যেন দর্শকদের শেষ পর্যন্ত আকৃষ্ট করে রেখেছে। এই ছবির ক্ষেত্রে গল্প বর্ণনার গভীরতাই আলাদা। শুধু তা-ই নয়, সঙ্গে রয়েছে একের পর এক ট্যুইস্ট। যা দর্শকদের মনে একটা আলাদাই জায়গা তৈরি করে। আসলে দর্শকরা যখনই ভাববেন যে, তাঁরা আসল বিষয়টা ধরে ফেলেছেন, ঠিক তখনই একটা অপ্রত্যাশিত মোড় এসে তাঁদের সেই ধারণাকে চুরমার করে দেবে। ফলে ছবির গল্প একেবারে টানটান হয়ে উঠেছে।
আর এই ধরনের চমকের মুহূর্তগুলি ছবির মধ্যে যেন আরও প্রাণ ঢেলে দিয়েছে। প্রত্যেকটা ট্যুইস্ট যেন দর্শকদের মনে একটা অজানা ভয় তৈরি করেছে। ফলে ছবির গল্পের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। ফলে এই সব ট্যুইস্টই প্রমাণ করেছে লেখনীর জোর।
তবে যেটা না বললেই নয়, সেটা হল – ছবিটির এডিটিং টানটান হলে সেটা আরও ভাল হত। আসলে ছবির প্রথম ভাগটা দেখে মনে হবে, অযথা টানাহ্যাঁচরা করে বাড়ানো হয়েছে। আর দ্বিতীয় ভাগটা দেখে যেন মনে হতে পারে যে, ছবিটা তাড়াহুড়ো করে কোনও রকমে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সিনেমার রাজনৈতিক পটভূমিটাকে দাঁড় করানোর জন্য এই উপাদানগুলি যোগ করা হয়েছে, তবে এগুলি সহজেই বাদ দেওয়া যেত।
এবার আসা যাক, অভিনয়ের প্রসঙ্গে। ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রাণ হয়ে উঠেছেন রণবীর সিং। দুর্ধর্ষ অভিনয় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। নিঃসন্দেহে এই ছবির তারকা তিনিই। একেবারে প্রথম দৃশ্য থেকেই ছবিতে তাঁর দুর্ধর্ষ স্ক্রিন প্রেজেন্স ধরা পড়েছে। এক মুহূর্তও যেন তাঁর থেকে নজর ফিরিয়ে রাখা যাবে না। এক-একটা দৃশ্যের প্রয়োজনে রণবীরের এক-এক রকম সাবলীল অভিনয় দেখে সেটা বাস্তব বলে মনে হতে বাধ্য! আর মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ্যে আলাদা করে রণবীরের কথা বলে দিতে হয় না। সবথেকে বড় কথা হল, রণবীরের অভিনয় দেখার জন্যই ‘’ধুরন্ধর ২’ দেখতে বসতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, আরও একটা বিষয় বলতেই হবে যে, রণবীরের হামজা চরিত্রটির মধ্যে সুন্দর ভাবে অক্ষয় খান্নার রহমান ডাকাত চরিত্রটির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন আদিত্য ধর। কয়েক জায়গায় হামজা চরিত্রটিকে ‘ধুরন্ধর’-এর রহমান ডাকাতের ছায়া বলেই মনে হবে। এটাই প্রমাণ করে যে, আদিত্য ধর কতটা সূক্ষ্ম ভাবে এই ছবির কাজ এগিয়েছেন। এর জন্য কুর্নিশ তাঁকে।
তবে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে সারা অর্জুনের দৃশ্য আরও একটু থাকলে হয়তো ভাল হত। প্রসঙ্গত, ছবিতে রণবীরের স্ত্রী-র ভূমিকায় দেখা গিয়েছে সারাকে। আসলে এই ছবির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে চলতে থাকে হামজা এবং আলিনার প্রেমকাহিনিও। কিন্তু সেই জায়গাটাকে বেশ ফিকেই মনে হয়েছে। গভীরতা বা অনুভূতিগত সম্পর্কের বেশ ফাঁক ছিল। সারার স্ক্রিন টাইম খুবই কম ছিল। তবে তাঁর চরিত্রটির উপর একটু জোর দেওয়া হলে হয়তো গল্পে আরও ভাল প্রভাব তৈরি হতে পারত।
তবে এই ছবির ক্ষেত্রে একটা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বর্ষীয়ান অভিনেতা রাকেশ বেদি। তাঁর অসাধারণ কমিক টাইমিং এই ছবিকে একটা পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। গল্পের গভীরতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একটা অক্সিজেনের মতো কাজ করেছে তাঁর অভিনয়। শুধু তা-ই নয়, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত এবং দানিশ পান্ডোরও নিজেদের ভূমিকায় সেরাটা দিয়েছেন।
এবার ছোট্ট করে একটা স্পয়লার দেওয়া যাক। আসলে ছবিতে একজনের স্পেশ্যাল অ্যাপিয়ারেন্স নিয়েই বিস্তর প্রতীক্ষা ছিল দর্শকদের। আর সেটা হল – ইয়ামি গৌতমের স্পেশ্যাল অ্যাপিয়ারেন্স। যদিও সত্যি বলতে কী, তাতে বিশেষ কিছুই ছিল না। এর জন্য ছবিটা দেখতে হবে। তবে বলে রাখা ভাল যে, এখানে দর্শকরা একপ্রকার হতাশই হবেন। এদিকে ধুরন্ধর ছবির মিউজিক নিয়ে কথা না বললে কিন্তু ব্যাপারটা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। ছবির সামগ্রিক প্রভাব বাড়াতে ছবির সঙ্গীতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সব শেষে এটা বলা যায় যে, গত ডিসেম্বরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ ছবির তুলনায় কোথাও গিয়ে যেন একটু দুর্বলই লেগেছে ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটিকে। সিক্যুয়েলে মারকাটারি অ্যাকশন এবং উপভোগ্য দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও গল্প বলার ধরনে যে টানটান ভাব থাকে, সেটাই অনুপস্থিত থেকে গিয়েছে। কিছু সাবপ্লট আবার ছবিটির মজাটাকে অনেকাংশে মাটি করে গিয়েছে। সব মিলিয়ে তুখোড় কিছু বিষয় থাকা সত্ত্বেও ‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রভাব সিক্যুয়েলে অনেকটাই যেন ফিকে হয়ে গিয়েছে।
