রন্ধনশিল্পীর জন্য নির্ধারিত পোশাকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “হোটেলে শেফ হিসেবে কাজ করার পুরো সময়টাতেই আমি প্রতিদিন কাজে আমার সম্পূর্ণ ইউনিফর্ম পরতাম।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, শেফের ইউনিফর্ম গর্ব ও সম্মান বয়ে আনে, এবং সম্ভবত এ কারণেই শেফরা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।”
শেফ সঞ্জীব টেলিভিশনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেফদের ভাবমূর্তি কীভাবে বদলেছে সে সম্পর্কেও কথা বলেছেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি যখন টিভিতে কাজ শুরু করি, তখন শেফের টুপি প্রায় দেখাই যেত না। ধীরে ধীরে, আমাকে আরও সাধারণ দেখানোর জন্য, তারা এর পরিবর্তে একটি সাধারণ শার্ট পরার পরামর্শ দেন।”
advertisement
যখন তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তখন শেফ সঞ্জীবকে তাঁর শেফের ইউনিফর্মের পরিবর্তে ফর্ম্যাল ভারতীয় পোশাক পরতে বলা হয়। তিনি বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল যে একটি প্রোটোকল আছে এবং আমাকে জাতীয় পোশাক পরতে হবে।”
প্রত্যুত্তরে সঞ্জীব ব্যাখ্যা করেন যে এটি তাঁর পেশা এবং সেই বিশেষ সম্মাননার মুহূর্তে তিনি তাঁর ইউনিফর্ম-ই পরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। নিজের পেশার সম্মান রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে শেফ সঞ্জীব তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন। তিনি তাঁদের জানিয়ে দিলেন যে তিনি শুধুমাত্র শেফের পোশাকেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং আরও বললেন, “আপনারা যদি আমাকে এই পোশাকে পদ্মশ্রী দিতে না চান, তবে একেবারেই দেবেন না।”
অবশেষে, সবকিছু নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছালাম এবং কোনও তর্ক বা সমস্যা ছাড়াই আমার শেফের পোশাকেই পদ্মশ্রী গ্রহণ করলাম।’’ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার নেপথ্যে গভীর অর্থ ব্যাখ্যা করে শেফ সঞ্জীব আরও বলেন, “আমি মনে করি, আমি যে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছি তা শুধু আমার জন্য নয়, বরং সকল রন্ধনশিল্পীদের জন্য।” ভারতীয় রন্ধনশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেফ সঞ্জীব কাপুরকে সরকার কর্তৃক ‘ভারতের শ্রেষ্ঠ শেফ’ জাতীয় পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়েছে।
