জানা যায়, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের জন্য দিঘার তালসারি সৈকতে গিয়েছিল সিরিয়ালের কলাকুশলীরা। ছিলেন অভিনেতা নীল, মধুমিতা চক্রবর্তী, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহানা-সহ গোটা টিম। ছিলেন রাহুলও। কলকাতায় ছেলে সহজকে নিয়ে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সূত্রের খবর, রবিবার সিরিয়ালের শ্যুটিং চলছিল সকাল থেকেই। রাহুলের শেডিউল ছিল পরের দিকে। তত ক্ষণে বাকি অভিনেতারা শট দিয়ে তালসারি ছেড়ে চলে গিয়েছিন। রাহুলের নৌকা-বিহারের একটা শট ছিল। নৌকায় চেপে মাঝ সমুদ্রে যান অভিনেতা। সঙ্গে ছিলেন টেকনিশিয়ানরা। জানা যায়, শট দেওয়ার সময়েই জলে পড়ে তলিয়ে যান রাহুল। ঘণ্টাখানেক খোঁজার পর টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিঘা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরাই অভিনেতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
advertisement
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির শ্যুটিংয়ে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে প্রেম শুরু রাহুলের। এরপর দু’বছর লিভ-ইন করার পর ২০১০ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। নিজের লেখা প্রথম বই ‘রাহুলের স্ক্র্যাপবুক’-এ অভিনেতা লিখছেন, ”‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির শ্যুটিংয়ে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে প্রেম শুরু রাহুলের। এরপর দু’বছর লিভ-ইন করার পর ২০১০ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। রাহুল সেখানে লিখেছেন, ‘নভেম্বরের ১৮ তারিখ আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হল। আমরা দু’জনেই লেগে পড়লাম বিয়ের কাজে। কারণ, সেভাবে আমাদের সাহায্য করার জন্য কেউই ছিল না। আর এরমধ্যেই গোটা কলকাতা বিয়ের খবরটা জেনে গেল। একটা নিউজ চ্যানেল আমাদের বিয়ের লাইভ কভারেজের প্রস্তাব দিল। প্রথমে না না করলেও অভিষেক-ঐশ্বর্যর বিয়ের উদাহরণ টেনে এমন ঘাঁটলেন যে আমি এলোমেলো হয়ে গেলাম। ভুলেই গেলাম যে, অভিষেকের বাবা আর আমার বাবা একরকম নয়।’’
কত স্মৃতি, কত বেদনা, কত চরাই উতরাই, কত প্রতিবন্ধকতা, সব পেরিয়েও এক ছিলেন দু’জনে! ঠিকানা বদলালেও মনের ঠিকানা বদলায়নি! একে অপরকে ছেড়ে যাননি রাহুল-প্রিয়াঙ্কা! অবশেষে ছন্দপতন! ভেঙে গেল রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি! প্রিয়াঙ্কা আর ছেলে সহজকে একা রেখে চলে গেলেন রাহুল।
