রহমানের মন্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় গায়ক শানও। তাঁর কথায়, কাজ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক শিল্পীরই হয়, কিন্তু সেটাকে ব্যক্তিগত বা সাম্প্রদায়িক বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শান বলেন, সঙ্গীতের জগতে ধর্ম বা সংখ্যালঘু পরিচয় কাজ পাওয়ার মাপকাঠি নয়। ভাল কাজ করলে সুযোগ আসবেই—এটাই বাস্তবতা।
এই মন্তব্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন লেখক ও কলামিস্ট শোভা দে। তিনি জানান, বলিউডে দীর্ঘদিন কাজ দেখে তাঁর অভিজ্ঞতা, এই ইন্ডাস্ট্রি তুলনামূলক ভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা থেকে মুক্ত। তাঁর মতে, প্রতিভা থাকলে কাজ পাওয়া যায়, ধর্ম সেখানে কোনও ফ্যাক্টর নয়। রহমানের মতো অভিজ্ঞ ও সফল শিল্পীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত ছিল না বলেও জানান তিনি।
এ দিকে, এই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বর্ষীয়ান গীতিকার জাভেদ আখতার। তিনি জানান, মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতে তিনি কোনও দিনই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক মনোভাব লক্ষ্য করেননি। তাঁর মতে, রহমান ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুল সম্মান পান। অনেকেই ভাবতে পারেন, আন্তর্জাতিক কাজ ও বড় মাপের শো-তে ব্যস্ত থাকার কারণেই তিনি হয়তো সহজলভ্য নন। এমনও হতে পারে, ছোট প্রযোজকেরা তাঁর কাছে যেতে দ্বিধা বোধ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান বলেছিলেন, গত কয়েক বছরে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে সৃজনশীল মানুষদের হাতে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কমেছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি ‘কমিউনাল’ও হতে পারে, যদিও তা সরাসরি তাঁর মুখের উপর নয়, বরং ‘চাইনিজ হুইসপার্স’-এর মাধ্যমে তিনি তা জানতে পান। তবে রহমান এটাও স্পষ্ট করেন, কাজ কমলেও তাঁর আত্মবিশ্বাস বা সৃজনশীল শান্তিতে কোনও প্রভাব পড়েনি।
রহমানের এই বক্তব্যের পর অনুপ জালোটা, শান, শোভা দে এবং জাভেদ আখতারের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট—হিন্দি চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে তাঁরা কেউই মানতে রাজি নন।
অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে হিন্দি চলচ্চিত্র জগৎ থেকে রাজনৈতিক মহল—সবত্রই শুরু হয়েছে বিতর্ক। রহমানের দাবি, গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদল ও সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তনের পর থেকে বলিউডে তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই পরিস্থিতির পিছনে ধর্মীয় মেরুকরণও একটি কারণ হতে পারে।
প্রায় সাড়ে তিন দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে বলিউড, দক্ষিণী সিনেমা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সব ক্ষেত্রেই নিজের জায়গা পাকা করেছেন রহমান। হলিউডে কাজ করে অস্কার জয়ের নজির যেমন রয়েছে, তেমনই তাঁর সৃষ্ট ‘বন্দেমাতরম’-এর মতো গান জাতীয় স্তরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে একাধিক কাজ তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।
রহমানের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশ নেতা দাবি করেছেন, বলিউডে কাজ কমার বিষয়টির সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় জুড়ে দেখা ঠিক নয়। তাঁদের বক্তব্য, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিভা ও পেশাদার সিদ্ধান্তই মূল ভূমিকা নেয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রহমান বলেন, তিনি কখনও সরাসরি বৈষম্যের মুখোমুখি হননি, তবে অনেক সময় ‘চাইনিজ হুইসপার্স’-এর মাধ্যমে জানতে পারেন, কাজের সিদ্ধান্ত অন্য ভাবে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, বর্তমানে সৃজনশীল মানুষের বদলে অন্যদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকাও এই পরিস্থিতির একটি কারণ হতে পারে।
রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র বিনোদন জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের রূপও নিয়েছে।
