ভোটের আগে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। ২০০৯ সাল থেকে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই প্রসঙ্গে, রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমি মা-মাটি-মানুষের সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা রেখেছি। সমস্ত কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং কয়েক লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীচারী ছাড়াও সকল পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালটি এবং অন্যান্য দফতরের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই ভাতা কার্যকর হবে।
advertisement
সরকারি সূত্রে খবর, ২০০৯ সালের রোপা ডিএ অনুযায়ী ২০২৬-এর মার্চ মাস থেকেই এই মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছিল, বকেয়া ডিএ- এর ২৫% অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। বাকি অর্থ কীভাবে মেটানো হবে তা ঠিক করতে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে আদালতই একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। কিন্তু, রাজ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করে।
পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ-র জন্য আন্দোলন দীর্ঘ দিনের। ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো অর্থাৎ রোপা-২০০৯ অনুযায়ী, ডিএ দেওয়ার দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমান হারে ডিএ-র দাবিও তুলেছেন তাঁরা। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিলে এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। তা দিতেই হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালতও ডিএ দেওয়ার পক্ষেই রায় দেয়। তার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনাও চালিয়েছে রাজ্য সরকার। ভোটঘোষণার আগে ডিএ-র ঘোষণা প্রসঙ্গে সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অরডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘গত ১৩ মার্চ আমরা রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করেছিলাম। সেই আন্দোলনের ফলেই রাজ্য সরকার চাপে পড়ে আমাদের ডিএ দিতে বাধ্য হয়েছে।’’
