শনিবার সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার জানান, ৪ এপ্রিল থেকে এই বিশেষ উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। প্রথম দিনেই পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে আকর্ষণীয় আলোচনা করেন অভিজ্ঞ শিক্ষকরা। সংসদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এই ক্লাসে কঠিন বিষয়গুলিকে সহজ করে, গল্পের ছলে তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে পড়ুয়ারা সহজেই বিষয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
advertisement
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছিল, ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ বিজ্ঞান শাখা বেছে নিয়েছিল। অনেক স্কুলেই বিজ্ঞান বিভাগের আসন ফাঁকা থেকে গিয়েছিল। এর পিছনে শিক্ষার মানের অবনমন, চাকরির বাজারে অন্যান্য বিষয়ের বাড়তি চাহিদা এবং উচ্চশিক্ষায় পরিকাঠামোর অভাবকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথম সারির কয়েকটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ জায়গায় মানসম্মত ল্যাবরেটরি ও গবেষণার সুযোগের অভাবও একটি বড় কারণ।
তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির হার বেড়ে হয়েছে ১৪ শতাংশ। এই ইতিবাচক প্রবণতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে সংসদ। পার্থ কর্মকার জানান, “মাধ্যমিকের পর পড়ুয়ারা যাতে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ না হারায়, সেই লক্ষ্যেই গোটা মাস জুড়ে চলবে এই অনুষ্ঠান।” শুধু লাইভ সেশন নয়, পরবর্তীতেও যাতে পড়ুয়ারা এই ক্লাসগুলো দেখতে পারে, তার জন্য ইউটিউব চ্যানেলে সংরক্ষিত রাখা হবে সমস্ত আলোচনা।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু পড়ুয়ার অংশগ্রহণ ছিল বলেও জানান তিনি। এছাড়াও, ১১ এপ্রিল গণিত ও রাশিবিজ্ঞান এবং ১৮ এপ্রিল জীববিদ্যা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে বিশেষ সেশন আয়োজন করা হবে। শিক্ষকমহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এভাবে পড়ুয়াদের সঙ্গে বিজ্ঞানের একটি ধারাবাহিক ও প্রাণবন্ত সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।
