পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পরীক্ষার প্রথম দিন সকালেই তাকে ছাতনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের শয্যায় থেকেও তার চোখে ছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস, “আমি পারব।”
আরও পড়ুন: বিনা কোচিংয়ে নজরকাড়া সাফল্য, WBCS ক্র্যাক করে বাংলার আলমগীর চমকে দিলেন গোটা দেশকে
চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও পরীক্ষায় বসার ইচ্ছায় সে এক মুহূর্তও পিছিয়ে যায়নি। হাসপাতালের ওয়ার্ডেই বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের অনুমতি এবং স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় সেখানে বসানো হয় পরীক্ষার ডেস্ক। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিদ্যালয় থেকে ছুটে এসে তত্ত্বাবধানে থাকেন, যাতে নিয়ম মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকেরাও সারাক্ষণ নজর রাখেন, প্রয়োজনে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
advertisement
অসুস্থ শরীর, স্যালাইনের বোতল আর যন্ত্রণার মাঝেও প্রশ্নপত্র খুলে মনোযোগ দিয়ে উত্তর লেখে ছাত্রী– এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের চোখে জল এনে দেয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মেধা ও অধ্যাবসায়ে সে বরাবরই এগিয়ে। এমন পরিস্থিতিতেও তার মনোবল ভেঙে না পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা গর্বিত। তাঁরা বলেন, “এই ছাত্রী আজ শুধু নিজের জন্য নয়, অসংখ্য পরীক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা।” হাসপাতালের কর্মীরাও জানান, এর আগে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখেছেন। অসুস্থতার মধ্যেও পরীক্ষার জন্য এমন দৃঢ় সংকল্প সত্যিই বিরল।
বাঁকুড়ার এই সাহসী ছাত্রীর গল্প এখন জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয়। সমাজের নানা স্তরের মানুষ তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল– ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই অজেয় নয়। পরীক্ষার প্রথম দিনেই সে দেখিয়ে দিল, সাহস, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও সংকটকে জয় করা যায়।





