স্কুলের ক্যাম্পাসকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্কুলের দুটি ভবনকে ট্রেনের বগির মতো করে রূপ দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, যেন রেললাইনে দাঁড়িয়ে আছে একটি ট্রেন। এই ট্রেনের নাম ‘বিবেক এক্সপ্রেস’। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়ইয়ের ভাবনাতেই এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়। বিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তন ছাত্র নিজেদের রং-তুলির জাদুতে সাজিয়ে তুলেছেন এই অভিনব ক্লাসরুম। দেয়ালে ট্রেনের কামরা, জানলা ও নানা আঁকা হয়েছে। পড়ুয়ারা প্রতিদিন সেই রঙিন ক্লাসরুমে ঢুকে আনন্দ পাচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়ছে।
advertisement
শুধু ক্লাসরুম সাজানোতেই থেমে থাকেনি এই উদ্যোগ। পড়ুয়াদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্মার্টফোনের যুগে বই পড়ার অভ্যাস দিন দিন কমছে। সেই অভ্যাস ফেরাতে ক্লাসরুমের প্রবেশপথেই আঁকা হয়েছে নানা বইয়ের ছবি। ছোটরা দেখলেই থমকে দাঁড়াচ্ছে। অনেকেই আগ্রহ নিয়ে ছবি দেখছে। কারও মুখে শোনা যাচ্ছে ‘ কু ঝিকঝিক’ শব্দ। দেখতে মনে হয়, এই ট্রেনটি যেন এক বিশাল বুকশেল্ফ। বইয়ের ছবি পড়ুয়াদের বেশ কৌতূহল বাড়াচ্ছে। কচিকাচারাও প্রতিদিন এসে সেই কামরার সামনে ভিড় করছে। ২৭ জানুয়ারি এই নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়ই জানান, পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতেই এই উদ্যোগ। ট্রেনের আদলে ক্লাসরুম দেখে ছাত্রছাত্রীরা খুব খুশি। তারা প্রতিদিন নতুন উৎসাহ নিয়ে ক্লাসে আসছে। তাঁর মতে, আজ মানুষের বিবেক ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম সেই শূন্যতা বাড়াচ্ছে। বইই পারে মানুষের বিবেক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে। মৌলিক চিন্তার জন্ম দিতে পারে বই। তাই ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ‘বিবেক এক্সপ্রেস’। এই ট্রেনের তিনটি কামরার গায়ে লেখা রয়েছে ৪২টি বইয়ের নাম। স্কুল ছুট কমিয়ে পড়ুয়াদের বইয়ের জগতে টেনে আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ।