ভারতে বর্তমানে চারটি আধুনিক ছাপাখানায় কাগজের নোট ছাপা হয়। এই নোট ছাপার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার ও Reserve Bank of India (RBI)-এর উপর বর্তায়।
‘আমিও শেষ দেখে ছাড়ব’! আদালতে যাওয়ার পথে বললেন মিমিকে হেনস্থার দায়ে গ্রেফতার হওয়া তনয় শাস্ত্রী
ভারতে নোট ছাপার যাত্রা শুরু হয় মহারাষ্ট্রের নাসিকে। ১৯২৬ সালে সেখানেই দেশের প্রথম ব্যাঙ্কনোট প্রিন্টিং প্রেস স্থাপিত হয়। সেই সময় ১০, ১০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ছাপা হত এই কারখানায়। যদিও প্রথম দিকে কিছু নোট ইংল্যান্ড থেকেও আমদানি করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৫ সালে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসে দ্বিতীয় নোট ছাপার কারখানা গড়ে ওঠে। প্রায় ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ নোট এই দুই জায়গাতেই ছাপা হত।
advertisement
আপনার পকেটের নোটের নেপথ্য কাহিনি: কাগজ জার্মানির, কালি সুইৎজারল্যান্ডের, ছাপা ভারতে
চাহিদা বাড়তে থাকায় ১৯৯৭ সালের পর ভারত সরকার আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকেও নোট ছাপানোর অর্ডার দেয়। একই সঙ্গে দেশীয় পরিকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার ফলেই ১৯৯৯ সালে কর্ণাটকের মাইসুরু এবং ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গের সালবনিতে আরও দু’টি নতুন নোট ছাপার প্রেস চালু হয়।
নোটের কাগজ আসে কোথা থেকে? RBI সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় নোটে ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ কাগজ আসে জার্মানি, ব্রিটেন এবং জাপান থেকে। তবে ধীরে ধীরে এই ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে দেশ। মধ্যপ্রদেশের হোশঙ্গাবাদে অবস্থিত বিশেষ পেপার মিলে নোট ও স্ট্যাম্পের কাগজ তৈরি করা হয়।
নোটে ব্যবহৃত বিশেষ নিরাপত্তামূলক কালি মূলত সুইৎজারল্যান্ডের সংস্থা SICPA থেকে আনা হয়। পাশাপাশি RBI-এর অধীনস্থ সংস্থা BRBNMPL কর্ণাটকের মাইসুরুতে ‘ভার্নিকা’ নামে একটি ইউনিট চালায়, যেখানে নোটের কালি উৎপাদন করা হয়।
সব মিলিয়ে, আপনার পকেটের প্রতিটি ভারতীয় নোট শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশের যৌথ প্রয়াস। পরের বার নোট হাতে নিলে মনে রাখবেন—এই ছোট কাগজের টুকরোর পিছনে লুকিয়ে আছে গোটা বিশ্বের গল্প।
