পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের এই গ্রামের মহিলারা বাইরে থেকে সাধারণ শাড়ি কিনে নিয়ে আসেন। তারপর সেই শাড়ির উপর আঠা দিয়ে নানান আকৃতির পুঁতি বসান। ছোট ছোট পুঁতির মাধ্যমে তৈরি হয় সুন্দর নকশা। ফুল, লতা কিংবা বিভিন্ন আকৃতির ডিজাইন ফুটিয়ে তোলেন তাঁরা। একটি সাধারণ শাড়িই তাদের হাতের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে অসাধারণ ডিজাইনার শাড়ি। ধৈর্য আর মনোযোগ দিয়েই তৈরি হয় প্রতিটি শাড়ি।
advertisement
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই মহিলারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব শেষ করেই মহিলারা সময় বের করেন এই কাজে বসার জন্য। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ করেই তারা তৈরি করছেন একের পর এক শাড়ি। প্রতি মাসে একজন মহিলা গড়ে ১৫ থেকে ২০টি শাড়ি ডিজাইন করেন। কম দামে শাড়ি কিনে এনে নিজের হাতে সাজিয়ে তোলায় বাড়তি লাভও হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজ্য ছাড়ে বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে যাচ্ছে এই শাড়ি। তাদের তৈরি এই শাড়ির চাহিদাও ও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
ব্রজকিশোরপুর গ্রামের মহিলাদের এই উদ্যোগ জেলা জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের ইনকাম বাড়ায় অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই উন্নত হয়ে উঠেছে এই গ্রাম। সংসারের খরচ সামলাতে অনেকটাই সহায়তা মিলছে এই আয়ে। মহিলারা এখন সঞ্চয়ী হয়ে উঠেছে। স্বনির্ভরতার এই উদ্যোগ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মহিলাদেরও অনুপ্রাণিত করছে। নিজের পরিশ্রমেই তারা তৈরি করছেন নতুন পরিচয়। পটাশপুরের এই গ্রাম এখন মহিলা স্বনির্ভরতা রশ্মি ছড়াচ্ছে।