আর এই ব্যবসা করে অন্যদেরও পথ দেখাচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বাসিন্দা কৃপাল পাল। এই ব্যবসাই তাঁর রুজি-রুটি। তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি এবং বিক্রি করে আসছেন। আর প্রতি তিন মাসে বেশ ভালই আয় হচ্ছে তাঁর।
advertisement
দ্বাদশ শ্রেণীর পরেই শুরু কাজ:
কৃপাল পাল বলেন, তিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কৃষি অনুষদে পড়াশোনা করেছেন। এরপর আর পড়াশোনা করেননি। তবে কৃষিকাজ নিয়ে নতুন কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। ঠিক সেই সময়েই তিনি ভার্মিকম্পোস্টিংয়ের বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর ছতরপুর জেলার নিওয়ারি গ্রামে গিয়ে প্রগতিশীল এবং আধুনিক কৃষক চিত্তরঞ্জন চৌরাসিয়ার কাছ থেকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর তিনি নিজেই ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি শুরু করেন।
ভার্মিকম্পোস্ট যেভাবে তৈরি হয়:
কৃপাল ব্যাখ্যা করেন যে, ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এর জন্য খুব বেশি কর্মীরও প্রয়োজন হয় না। সাধারণত দুজন মানুষ সহজেই এটি করতে পারেন। শুধুমাত্র সার ছেঁকে নেওয়ার সময় ৩ থেকে ৪ জনের প্রয়োজন হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি প্লাস্টিকের বেডে ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করেন। একটি প্লাস্টিকের বেডে প্রায় ৫ কিলোগ্রাম কেঁচো রাখা হয়। আর প্রায় তিন মাসের মধ্যে কম্পোস্ট প্রস্তুত হয়ে যায়। একটি প্লাস্টিকের বেড থেকে প্রায় ৬ থেকে ৬.৫ কুইন্টাল ভার্মিকম্পোস্ট উৎপন্ন হয়। এভাবে তিন মাস পর মোট ২০ থেকে ৩০ কুইন্টাল উচ্চমানের সার উৎপাদন করেন তিনি।
যেসব জায়গায় সার সরবরাহ হয়:
কৃপালের বক্তব্য, কৃষকরা ধীরে ধীরে ভার্মিকম্পোস্টের উপকারিতাগুলি বুঝতে পারছেন। বর্তমানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কৃষক এই কম্পোস্ট ব্যবহার করছেন। কৃপাল পালের তৈরি কম্পোস্ট রাজগড়ের তিনটি হোটেলেও সরবরাহ করা হয়। এর পাশাপাশি মিশো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন অর্ডার গ্রহণ করেও সার বিক্রি করেন তিনি।
সার ব্যবসায় আয়ের হিসেব:
কৃপাল ব্যাখ্যা করেন যে, খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে এই সারের দাম হয় ২০ টাকা। আর সারের পাইকারি দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করেন ওই সার। কারণ এর মধ্যে পরিবহণ, প্যাকেজিং এবং কখনও কখনও অর্ডার ক্যান্সেলেশনের বিষয়গুলিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কম বিনিয়োগে ভাল লাভ:
কৃপালের মতে, এই ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় খরচটা হয় কেঁচো কিনতে। তবে কাজ শুরু হয়ে গেলে খরচ কম থাকে। কৃপাল আরও জানান যে, তিনি এই ব্যবসা থেকে প্রতি তিন মাসে সহজেই ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা আয় করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই ব্যবসাটি কর্মসংস্থান হিসেবে বিশেষ করে গ্রামের তরুণ সম্প্রদায়ের জন্য একটি দুর্দান্ত বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই ব্যবসাটি স্বল্প বিনিয়োগে শুরু করা যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
