কিন্তু সত্যি হল, ব্যাঙ্ক মার্জার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, যা Reserve Bank of India (RBI) নজরদারি করে, যাতে গ্রাহকদের কোনও ধরনের ক্ষতি না হয়।
মার্জারের পরে ব্যাঙ্কের নাম বদলাতে পারে, সিস্টেম আপডেট হতে পারে এবং কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে আপনার টাকা এবং প্রাথমিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবাগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদই থাকে।
advertisement
দেখে নিন আসলে কী কী পরিবর্তন হয় এবং আপনাকে কী করতে হবে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার পুরনো অ্যাকাউন্ট নম্বর আগের মতোই থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক শুরুতে কিছু সংখ্যা যোগ করতে পারে, তবে এই পরিবর্তনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) হয়ে যায়।
গ্রাহকদের আলাদা করে কিছু করার প্রয়োজন হয় না এবং পুরনো অ্যাকাউন্ট স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে থাকে।
মার্জারের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যায় IFSC কোডে। পুরনো IFSC কোড ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নতুন ব্যাঙ্কের IFSC কোড চালু হয়।
এই ক্ষেত্রে আপনাকে UPI, NEFT, RTGS এবং অটো ডেবিটের মতো পরিষেবায় নতুন IFSC আপডেট করা জরুরি। যদিও কিছু সময় পর্যন্ত পুরনো IFSC-এ পাঠানো টাকা নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যায়, তবে নিরাপত্তার জন্য নতুন কোড ব্যবহার করাই ভাল।
আরও পড়ুন: এবছর দীপাবলির সময় ২ লাখ টাকা হবে সোনার দাম ? জেনে নিন চমকে দেওয়া ভবিষ্যদ্বানী
চেকবই এবং লেনদেনে প্রভাব–
মার্জারের পর পুরনো চেকবই কিছু সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যাঙ্ক নতুন চেকবই ইস্যু করে দেয়।
তবে আপনি যদি দীর্ঘদিন পুরনো চেকবই ব্যবহার করেন, তাহলে চেক বাউন্স হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নতুন চেকবই হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরনোটি ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়াই ভাল।
FD, ঋণ ও সুদের হারে প্রভাব
ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং ঋণের ক্ষেত্রে মর্জারের প্রভাব নতুন ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভর করে। যদি নতুন ব্যাঙ্কের সুদের হার কম হয়, তাহলে রিটার্ন কিছুটা কমতে পারে, আর যদি বেশি হয়, তাহলে লাভও হতে পারে।
তবে আপনার FD-র মেয়াদ (ম্যাচিউরিটি) এবং মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। ঋণের EMI-ও কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকে, শুধু ব্যাঙ্কের নাম এবং কিছু শর্ত আপডেট হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইনকাম ট্যাক্সের নোটিস এসেছে বাড়িতে ? প্রথমেই যা করতে হবে ….
ডেবিট কার্ড এবং ডিজিটাল পরিষেবা
মার্জারের পর আপনার পুরনো ডেবিট কার্ড কিছুদিন পর্যন্ত কাজ করে, তবে ধীরে ধীরে ব্যাঙ্ক নতুন কার্ড ইস্যু করে দেয়।
নেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপও নতুন ব্যাঙ্কের প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়। ফলে আপনাকে একবার লগইন ডিটেলস আপডেট করতে বা নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হতে পারে।
গ্রাহকদের কী করা উচিত
মার্জারের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ব্যাঙ্ক থেকে আসা SMS, ইমেল এবং অ্যাপ নোটিফিকেশনগুলোর উপর নজর রাখা। নতুন IFSC, চেকবই এবং ডেবিট কার্ড পেলেই সেগুলি আপডেট করে নিন।
কোনও বিভ্রান্তি থাকলে সরাসরি ব্যাঙ্ক বা কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ব্যাঙ্ক মার্জারের সময় আপনার টাকার কোনও ঝুঁকি থাকে না। Deposit Insurance and Credit Guarantee Corporation (DICGC)-এর অধীনে ₹৫ লক্ষ পর্যন্ত টাকা বীমাকৃত থাকে, যা গ্রাহকদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়।
