ভারতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে “একজন মহান মানুষ” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অতীতে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা পেত। “তিনি (মোদি) তাঁর প্রতিপক্ষদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান ছিলেন… ভারত আমাদের ঠকাচ্ছিল। আমরা ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি। এখন সেটি ন্যায্য চুক্তি। আমরা সামান্য পরিবর্তন করেছি,” বলেন ট্রাম্প।
advertisement
ঝড় তুলেছে AI! উধাও হয়ে যেতে পারে ৪০ শতাংশ চাকরি? আশঙ্কার কথা শোনালেন IMF চিফ!
আগে আলোচিত বাণিজ্য কাঠামো অনুযায়ী, ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও নয়াদিল্লির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন তিনি নতুন করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ জারি করা হবে, যা বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত। পাশাপাশি তিনি বলেন, সেকশন ২৩২-এর আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা ভিত্তিক শুল্ক এবং সেকশন ৩০১-এর আওতায় বিদ্যমান শুল্ক বহাল থাকবে।
এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের নির্দেশ বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে সার্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। আইনটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয়, তবে সামগ্রিক বা blanket শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না বলে মত আদালতের। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানফ এই রায়ের বিরোধিতা করেন।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লেখেন, কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবে শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা স্পষ্ট ও সীমাবদ্ধ শর্তে প্রদান করেছে। আইইইপিএ-র বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অযৌক্তিক সম্প্রসারণ হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সেকশন ১২২-এর আওতায় ঘোষিত নতুন শুল্ক, যা ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস ট্যারিফ’ নামে পরিচিত, সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকতে পারে। এরপর তা চালু রাখতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ভারত সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, কোয়াড সম্মেলনের জন্য তিনি ভারত সফর করতে পারেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি ইতিবাচক সুরে বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অসাধারণ, এবং আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করছি।” তিনি দাবি করেন, জ্বালানি কেনাবেচা নিয়ে তাঁর উদ্বেগের জবাবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে। “আমরা একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ থামাতে চাই, যেখানে প্রতি মাসে ২৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে,” বলেন ট্রাম্প।
এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতেও ভূমিকা নিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, এই রায় তাঁর বাণিজ্য নীতিকে ভেস্তে দেবে না। তাঁর দাবি, এখন তাঁর কাছে রাজস্ব আদায়ের আরও “শক্তিশালী” বিকল্প রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশি স্বার্থ এবং একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। “ওরা এখন আনন্দ করছে, কিন্তু বেশি দিন করবে না,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
