এই জাদুঘরের দীর্ঘ দিনের অনুরাগী এবং একনিষ্ঠ ভক্ত নীতা আম্বানি। সেই হিসেবেই ২০১৯ সালে নীতা আম্বানিকে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট-এর সম্মানিত ট্রাস্টি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি মিউজিয়ামের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হয়েছেন। এই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নীতা আম্বানি ভারতীয় শিল্পসম্ভারকে গোটা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার কাজ করে চলেছেন।
advertisement
এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে নীতা আম্বানি বলেন, “আমি ভারতীয়। বুদ্ধের দেশ থেকে এসেছি। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্ট’ প্রদর্শনীকে সমর্থন করতে পারা আমার কাছে বিশাল সম্মানের বিষয়। এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে খ্রিস্টপূর্ব ২ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত বৌদ্ধ শিল্পের উৎপত্তি খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। জায়গা করে নিয়েছে ১২৫টিরও বেশি প্রাচীন ভারতের শিল্প নিদর্শন। ‘ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্ট’ বৌদ্ধ ধর্ম এবং ভারতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, এতে আমরা গর্বিত। বুদ্ধের শিক্ষা ভারতের নীতির সঙ্গে জড়িত। বিশ্বব্যাপী চিন্তাধারাকেও সার্বিক রূপ প্রদান করে। আমি আশা করি যে, সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসবেন এবং প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন। ভারতের সেরাটা বিশ্বের কাছে এবং বিশ্বের সেরাটা ভারতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
‘ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্ট’-এর স্পেশাল প্রিভিউতে উপস্থিত ছিলেন নীতা আম্বানি। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, শিল্প জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তারাজিৎ সিং সান্ধু, ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি, এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বের হার্বার্ট আরভিং কিউরেটর এশিয়ান এবং ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্টের কিউরেটর জন গাই।
‘ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্ট’ একটি অনন্য কিউরেটেড প্রদর্শনী। প্রাচীন ভারতের আদি নিদর্শন এবং ধ্বংসাবশেষকে কেন্দ্র করে ইন্টারলকিং থিমের সিরিজ। অনুষ্ঠানটি এমন একটি সময়ের কথা বলে, যখন দেশের ধর্মীয় বাতাবরণকে নিজের মত এবং বোধ দিয়ে প্রভাবিত করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ। বৌদ্ধ স্তূপগুলি থেকে প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় কাঠামোর আভাস পাওয়া যায়। এই স্তূপ শুধু ধ্বংসাবশেষ নয়, বরং প্রতীকি উপস্থাপনা। আবার বৃক্ষ এবং সাপ – বৌদ্ধ শিল্পের দু’টি প্রাথমিক মোটিফের নামেই প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র বোধিবৃক্ষ এবং তার রক্ষাকারী সর্প, ‘ট্রি অ্যান্ড সার্পেন্ট’। বৌদ্ধ ধর্মের ধারণাগুলিকে প্রকাশ করা হয়েছে দর্শনীয় চিত্রের মাধ্যমে। দেখানো হয়েছে কীভাবে নৈতিক শিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম মহান ধর্ম!
