এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সস্তায় মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য৷ জনৌষধি স্টোরগুলিতে যে জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যায়, তা বাজারের তুলনায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হয়৷ সস্তায় ওষুধ বিক্রিতে উৎসাহ দিতেই সরকার জেনেরিক ওষুধের উপরে জোর দিচ্ছে৷ তাই জনৌষধি কেন্দ্র খুলতে নানা রকম সুযোগ সুবিধে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷
advertisement
কেন্দ্রীয় রসায়ণ ও সার মন্ত্রকের খবর অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে ৬৩০০টি জনৌষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে৷ লকডাউন জারি হওয়ার পর থেকে ওষুধ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়া সত্ত্বেও এপ্রিল মাসে মোট ৫২ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে জনৌষধি কেন্দ্রগুলি থেকে৷ মার্চ মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪২ কোটি টাকার ওষুধ৷ হোয়াটসঅ্যাপ এবং ই মেল-এর সাহায্যেও জনৌষধি কেন্দ্রগুলিতে ওষুধের অর্ডার দিতে পারছেন গ্রাহকরা৷
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কীভাবে এই জনৌষধি কেন্দ্রগুলি খোলা যায়-
জনৌষধি কেন্দ্র খুলতে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়৷ এর গোটা খরচই কেন্দ্রীয় সরকার বহন করছে৷ এই ধরনের ওষুধের দোকান খুলতে তিনটি ক্যাটাগরি তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷
প্রথমত, যে কোনও ব্যক্তি, উপার্জনহীন কোনও ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসক এই ধরনের ওষুধের দোকান খুলতে পারবেন৷
দ্বিতীয়ত, এর পাশপাশি ট্রাস্ট, এনজিও, প্রাইভেট হাসপাতাল, সেল্ফ হেল্প গ্রুপ ওষুধের দোকান খুলতে পারবে৷
তৃতীয়ত, রাজ্য সরকারের মনোনীত কোনও এজেন্সি এই দোকান খুলতে পারবে৷ এর জন্য ১২০ বর্গফুটের একটি দোকান থাকতে হবে৷ দোকান চালু করার জন্য সরকারের তরফে ৯০০ রকমের ওষুধ সরবরাহ করা হবে৷
এই দোকান খোলার জন্য খুচরো ওষুধ বিক্রির জন্য জনৌষধি স্টোরের নামে লাইসেন্স থাকতে হবে৷ দোকান খুলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা http://janaushadhi.gov.in/ লিঙ্কে গিয়ে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন৷ ওই ফর্ম পূরণ করে ব্যুরো অফ ফার্মা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং অফ ইন্ডিয়া-র জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আবেদন পাঠাতে হবে৷ ব্যুরো অফ ফার্মা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং অফ ইন্ডিয়া-র ঠিকানা জনৌষধি- এর ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে৷
এসসি, এসটি এবং বিশেষভাবে সক্ষমরা দোকান খুলতে চাইলে তাঁদের পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের ওষুধ অগ্রিম দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷
আবেদন করার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?
কোনও ব্যক্তি নিজে আবেদন করলে আধার এবং প্যান কার্ড জমা দিতে হবে৷ কোনও এনজিও, ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনার জনৌষধি কেন্দ্রের জন্য আবেদন সংস্থা গঠনের সার্টিফিকেট এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে৷ এর পাশাপাশি একটি ১২০ বর্গফুটের দোকান থাকতে হবে৷
জনৌষধি স্টোর খুলে কত টাকা উপার্জন সম্ভব?
১. জনৌষধি স্টোরে ওষুধের এমআরপি-র উপরে বিক্রেতা ২০ শতাংশ কমিশন পান৷
২. এককালীন ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য করা হয়৷
৩. জনৌষধি কেন্দ্রে ১২ মাসে মোট বিক্রির ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ইনসেন্টিভ দেওয়া হয়৷ যদিও প্রতিমাসের ইনসেন্টিভ সর্বাধিক দশ হাজার টাকা হবে৷
৪. উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি, নকশাল উপদ্রুত এলাকা, আদিবাসী এলাকায় ইনসেন্টিভের পরিমাণ ১৫ শতাংশ৷
৫. এক্ষেত্রেও মাসিক ইনসেন্টিভের পরিমাণ ১৫ হাজার টাকার হবে না৷
