ধরা যাক, আপনি পেট্রোল পাম্পে তেল কিনতে গেলেন। অনেক কম দামে তেল তো মিললই, সঙ্গে মিলল উপহার। যতটা তেল কিনলেন, ঠিক ততটাই ফ্রি। সেটা আপনি যেদিন ইচ্ছে নিতে পারেন। ফ্রি কেন? এই যে আপনি, এই দুর্দিনেও তেলটা নিলেন। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এখন এমনই দুর্দিন।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চালু অ্যাডভান্স প্রাইসিং ৷ অর্থাৎ ডলার আগাম দিয়ে পরের মাসের অর্ডার বুক করতে হয় ৷ মঙ্গলবার মার্কিন মুলুকে নেগেটিভ প্রাইসিং হয়েছে ৷ অর্থাৎ ক্রেতা ধরে রাখতে তেল ফ্রি দেয় সংস্থাগুলো ৷ পরে তেলের দাম কিছুটা চড়তে শুরু করে ৷ বুধবারও দাম ব্যারেলে ৮ ডলারের ওপরে ওঠেনি ৷ ব্রেন্ট ক্রড অয়েলের দাম কমলেও ততটা কমেনি ৷ ভারত ৯৫ শতাংশই ব্রেন্ট ক্রুড আমদানি করে ৷
advertisement
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তলানিতে পৌঁছনোর পরেই ঘুরেফিরে আসছে অবধারিত সেই প্রশ্ন। কেন ভারতেও সঙ্গতি রেখে দাম কমানো হবে না? বিশেষত এই লকডাউনের বাজারে, যখন মানুষের দুর্ভোগ চরমে। ট্যুইটে রাহুল গান্ধির প্রশ্ন, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস। সরকার তো অনেক কম দামে তেল কিনছে ? খুচরো বাজারে দাম কখন কমবে?
একই প্রশ্ন বাম সহ অন্য বিরোধী দলগুলিরও। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অবস্থা গতিক যা, তাতে এবারও খুচরো বাজারে দাম কমা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ সংস্থা নোমুরার পরিসংখ্যান, ৩ মাস তেলের দর ২০ ডলারের কম থাকলে কয়েক হাজার কোটি খরচ বাঁচবে কেন্দ্রের ৷
লকডাউনে কর আদায় হচ্ছে না। ব্যবসা বাণিজ্যও বন্ধ। তাই এই টাকা কেন্দ্রকে অক্সিজেন জোগাতে পারে। সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছে মোদি সরকার। মার্চের শেষে পেট্রোল ও ডিজেলে লিটারে ৩ টাকা শুল্ক বাড়ায় কেন্দ্র ৷গত ২২ মার্চ এব্যাপারে আইনে সংশোধন আনা হয় ৷ এখনও লিটারে ৮ টাকা শুল্ক বাড়ানোর ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে ৷
তেলের দাম নিয়ে ভারতে বরাবরই উল্টো নিয়ম। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে খুচরো বাজারে দাম বাড়ে। দাম কমলে তেলের দাম কমে না। গত ২০ বছরে অন্তত ৪৫ বার এই একই ঘটনা ঘটেছে।
