আম্বানি বলেন, মোদির দৃষ্টিভঙ্গি আগামী ৫০ বছরের জন্য ভারতের গতিপথ নতুনভাবে গড়ে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে দেশের “সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস” পুনরুদ্ধার করেছে। সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“সবচেয়ে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী, আপনি ভারতের সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন। ভারতের ইতিহাসে কখনও এতটা আশা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রাণবন্ততা আমরা দেখিনি, যতটা এখন দেখছি।”
সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের জন্য এটি একটি “বড় সম্মান” উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থাকায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে আম্বানি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। এর আগে দিনের শুরুতে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর জন্য প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ মন্দিরে গিয়েছিলেন— সেই প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।
advertisement
আম্বানি বলেন, “আমি ‘জয় সোমনাথ’ দিয়ে শুরু করছি। আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর সোমনাথের প্রার্থনা থেকে যে ইতিবাচক ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা গোটা গুজরাট ও ভারতের সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের জন্য এটি এক বিশাল সম্মান যে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলনে উপস্থিত। গান্ধীনগরে ২০ বছর পর, রাজকোটে এই আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।”
আম্বানি বলেন, “ইতিহাস “মোদি যুগ”-কে সেই সময় হিসেবে লিপিবদ্ধ করবে, যখন ভারত সম্ভাবনা থেকে বাস্তবায়নে, আকাঙ্ক্ষা থেকে কর্মে এবং অনুসারী থেকে বৈশ্বিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আগামী ৫০ বছর এবং তারও বেশি সময়ের জন্য ভারতের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ইতিহাস লিখবে— মোদি যুগেই ভারত সম্ভাবনা থেকে পারফরম্যান্সে, আকাঙ্ক্ষা থেকে কাজে এবং অনুসারী থেকে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতের “অপরাজেয়, সুরক্ষামূলক প্রাচীর” বলে উল্লেখ করে আম্বানি বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলি ভারতের মানুষকে “ছুঁতে বা সমস্যায় ফেলতে” পারে না— তার কারণই হলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি বিশ্ব খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, এমনকি অপ্রত্যাশিত অস্থিরতাও আনছে। কিন্তু ভারতের জন্য আশ্বাসের বিষয় হল— এই চ্যালেঞ্জগুলি আমাদেরকে স্পর্শ বা বিপদে ফেলতে পারবে না। কারণ ভারতের রয়েছে এক অপরাজেয় সুরক্ষাবলয় হল নরেন্দ্রভাই মোদি। বিশ্ব জানুক, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এটাই ভারতের নির্ধারক দশক। ভারত শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না, ভারত নিজেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে।”
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্গভি সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। দুই দিনের এই সম্মেলনে পরিষ্কার জ্বালানি ক্ষেত্রে গুজরাটের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ভারতের ‘পঞ্চামৃত’ অঙ্গীকারের সঙ্গে রাজ্যের সামঞ্জস্য তুলে ধরা হবে।
